kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

জীবনযুদ্ধে হার না মানা প্রতিবন্ধী আরজিনা এখন জনপ্রতিনিধি

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি    

১৯ জুন, ২০২২ ১০:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জীবনযুদ্ধে হার না মানা প্রতিবন্ধী আরজিনা এখন জনপ্রতিনিধি

আরজিনা আক্তার।

তিনি জগৎসংসারে অসহায় এক প্রতিবন্ধী নারী। সংসারে সুখও মেলেনি। কিন্তু তাতে কী হয়েছে, পেয়েছেন মানুষের বিপুল ভালোবাসা। বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবার কাছেই মিলেছে তাঁর আশ্রয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি সবার প্রিয় আরজিনা আক্তার।

গত বুধবার টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আরজিনা আক্তার সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। আরজিনা আক্তার এক হাজার ৭৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরজিনা খাতুন পেয়েছেন এক হাজার ১১২ ভোট। চারজন নারী এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আরজিনা আক্তার ইছাদিঘি আতিয়াপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ ভুঁইয়ার মেয়ে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় এক মেয়ে ও এক ছেলে। এরপর একদিন স্বামী তাঁর ডান হাতের গোড়ার দিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এরপর তাঁর হাতটি কেটে ফেলতে হয়। ভেঙে যায় সংসার। আবার ঠিকানা হয় বাবার সংসার। সন্তান নিয়ে নানা কষ্টে দিন কাটে তাঁর। কিন্তু থেমে থাকেনি আরজিনার জীবনসংগ্রাম। গ্রামের মানুষের বিপদে-আপদে ছুটে বেড়ান এবাড়ি-ওবাড়ি। পাশে দাঁড়ান অসহায়দের। বাল্যবিয়ে, যৌতুক, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় পার করেন আরজিনা।

গ্রামের প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ান তিনি। একসময় তাঁর কাজের সীমানা হয়ে ওঠে গ্রাম পেরিয়ে পুরো উপজেলা। নির্বাচিত হন উপজেলা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি। কিন্তু থেমে থাকেননি তিনি। এরপর দায়িত্ব পান ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের। একসময় গ্রামের মানুষের অনুরোধে তিনি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন। এলাকার মানুষ বিপুল ভোটে তাঁদের প্রিয় আপাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন। চমক দেখান বিজয়ী হয়ে।

ওই গ্রামের শিক্ষক শেখ চান মাহমুদ বলেন, ‘আরজিনা আক্তার নিজে একজন প্রতিবন্ধী ও সংগ্রামী মানুষ। এলাকার সব অসহায় মানুষের পাশে তিনি দাঁড়িয়েছেন বলেই মানুষ ভালোবেসে তাঁকে প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন। অসহায় মানুষ হয়েও মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়, তার দৃষ্টান্ত আরজিনা আক্তার। তিনি হতে পারেন আমাদের সবার প্রেরণা। ’

উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও নারী আন্দোলনের নেত্রী অধ্যক্ষ মুসলিমা খাতুন বলেন, ‘আরজিনা আক্তার সমাজের সবার চোখ খুলে দিয়েছেন। তাঁর কষ্টকর ও সংগ্রামী জীবন সমাজকে পথ দেখাবে—হবেন অন্যের অনুকরণীয়। কোনো বাধা যে বাধা নয়, তার প্রমাণ দিয়েছেন আরজিনা। ’

আরজিনা আক্তার বলেন, ‘জীবনসংগ্রামে আমি থেমে যাইনি। একজন অসহায় মানুষ হিসেবে সব সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। বিপদে-আপদে সময়-অসময় আমি মানুষের ডাকে ছুুটে গিয়েছি। সংসারের সুখ না পেলেও মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেছি। সুখ খোঁজার চেষ্টা করেছি। নির্বাচন করতে আমার কোনো টাকা লাগেনি, আমার কোনো টাকা নেই। এলাকার মানুষ শুধু ভোটই দেননি, টাকা-পয়সা দিয়েও সহায়তা করেছেন। সবার ভালোবাসায় আমি ঋণী। চিরকৃতজ্ঞ। আরো বেশি বেশি সেবা দিতে চাই। ’

 



সাতদিনের সেরা