kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

সাক্ষাতকার

যানজট-জলজটমুক্ত আধুনিক কুমিল্লা গড়ব : রিফাত

আবদুর রহমান, কুমিল্লা   

১৭ জুন, ২০২২ ১১:৫৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



যানজট-জলজটমুক্ত আধুনিক কুমিল্লা গড়ব : রিফাত

আরফানুল হক রিফাত।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ নেতা আরফানুল হক রিফাত কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কুমিল্লা সিটির মানুষ এত দিন প্রাপ্য নাগরিক সুবিধা পায়নি। এবার তিনি মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটাবেন। এ জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন তিনি।

তবে কোথাও আটকে গেলে তাঁর (রিফাত) নেতা কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের পরামর্শ নেবেন।

বিজ্ঞাপন

এমপি বাহারের পরামর্শে আধুনিক নগরী গড়ার কথা বলেছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লা নগরীর রামঘাট এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেন আরফানুল হক রিফাত।

 

কালের কণ্ঠ : নির্বাচন নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

আরফানুল হক রিফাত : একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। কুমিল্লার মানুষ ভোট দিয়ে তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। শুধু আমি নই, কোনো প্রার্থীরই নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগ ছিল না।

 

কালের কণ্ঠ : আপনার সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোটের ব্যবধান ৩৪৩। গ্রুপিংয়ের কোনো বিষয় ছিল?

আরফানুল হক রিফাত : ভোটগ্রহণ চলাকালে বৃষ্টি এবং ইভিএমের ধীরগতির কারণে অনেকে ভোট দিতে পারেননি বা অনেকে ভোট না দিয়েই চলে গেছেন, যে কারণে ভোটের ব্যবধান কমেছে। আর কুমিল্লায় ব্যক্তির বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু নৌকার প্রশ্নে সবাই আপসহীন। আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মী দিনরাত একাকার করে আমার জন্য কাজ করেছেন।

 

কালের কণ্ঠ : কুমিল্লায় এই প্রথম নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মেয়র হলেন। মানুষ কেন এবার নৌকাকে বেছে নিয়েছে বলে মনে করেন?

আরফানুল হক রিফাত : কুমিল্লা সিটি করপোরেশন তো হয়েছে ১১ বছর আগে। এর আগেও আরো ২০ বছর কুমিল্লা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের কেউ নির্বাচিত হননি। সর্বশেষ ৩১ বছর আগে আওয়ামী লীগের পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন আমার নেতা এমপি বাহার। দীর্ঘদিন ধরেই কুমিল্লা সিটিতে আওয়ামী লীগের মেয়রের অভাব অনুভব করছিলেন আমাদের নেতাকর্মীরা। এবার তাঁদের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। মানুষ উন্নয়নের প্রতীক নৌকাকে বেছে নিয়েছে। দুর্নীতিবাজকে বর্জন করেছে। কুমিল্লাবাসী মনে করেছে, তাদের সঠিক নাগরিক সুবিধা পেতে হলে নৌকার বিকল্প নেই।

 

কালের কণ্ঠ : বিএনপিপন্থী দুই প্রার্থী এবার নির্বাচনে লড়েছেন। অনেকে বলেন, বিএনপির দুই প্রার্থী থাকায় আপনি বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন।

আরফানুল হক রিফাত : না, আমি এটাতে কোনো বাড়তি সুবিধা মনে করছি না। আমার কাছে সবাই সমান। আমি কাউকেই ছোট করে দেখিনি নির্বাচনে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। বৃষ্টি এবং ইভিএমের ধীরগতি না থাকলে ভোটে আমার জয়ের ব্যবধান আরো বাড়ত।

 

কালের কণ্ঠ : মেয়র হিসেবে প্রথমেই নগরীর মানুষের জন্য কোন কাজটি করতে চান?

আরফানুল হক রিফাত : কুমিল্লার মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা ও যানজট। আমি এক বছরের মধ্যে জলাবদ্ধতা ও যানজটের সমস্যার সমাধান করতে চাই। এই সমস্যা সমাধানের কাজে নগর পরিকল্পনাবিদ যুক্ত করব। সুন্দর পরিকল্পনা নিয়ে নগরীকে এগিয়ে নেব। প্রয়োজনে দেশের বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদদের পরামর্শ নিয়ে জলাবদ্ধতা ও যানজট সমস্যার সমাধান করব।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে কী পরিবর্তন আনবেন?

আরফানুল হক রিফাত : আমি প্রথমেই সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করব। আগে নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনে ঘুষ ছাড়া কাজ হতো না। সরকারি ফির বাইরে আমাকে এক টাকাও ঘুষ দিতে হবে না। বহুতল ভবনের নকশা অনুমোদনে আগের মেয়রের মতো আমাকে বিনা মূল্যে কোনো ফ্ল্যাট দিতে হবে না। ঠিকাদাররা কার্যাদেশ নিতে এখন থেকে আমাকে পারসেন্টেজ হিসেবে ঘুষ দিতে হবে না। আর সাবেক মেয়রের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি বলেছেন সিটি করপোরেশনকে দলীয় কার্যালয় বানাবেন না। কিভাবে এটা করবেন?

আরফানুল হক রিফাত : আমাদের নেতাকর্মীদের জন্য অনেক সুন্দর ও মনোরম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় রয়েছে। আর প্রয়োজনে হলে এমপি বাহার ভাইকে বলে আমি এখানেও মেয়রের জন্য একটি কক্ষ নেব। এর পরও সাবেক মেয়রের মতো সিটি করপোরেশনকে দলীয় কার্যালয় বানাব না। সিটি করপোরেশনের মেয়রের দরজা নগরীর মানুষের জন্য সব সময় খোলা থাকবে। সিটি করপোরেশেন হবে গণমানুষের প্রতিষ্ঠান।

 

কালের কণ্ঠ : নগর পরিচালনায় সাবেক মেয়রের পরামর্শ নেবেন?

আরফানুল হক রিফাত : আমি কুমিল্লাকে দেশের আধুনিক নগরী হিসেবে গড়তে চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতা দরকার। আমি চাইব সাবেক মেয়রও এ ক্ষেত্রে আমাকে যেন সহযোগিতা করেন। এ জন্য আমি তাঁকে আমন্ত্রণ জানাব।

 

কালের কণ্ঠ : নগরবাসীর উদ্দেশে কী বলবেন?

আরফানুল হক রিফাত : আমি কুমিল্লার মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। তাঁরা আমাকে হতাশ করেননি। নগরীর মানুষ আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, আমি তাঁদের সেই মর্যাদা রক্ষা করব।

 

কালের কণ্ঠ : আপনাকে ধন্যবাদ।

আরফানুল হক রিফাত : আপনাদেরও ধন্যবাদ।



সাতদিনের সেরা