kalerkantho

সোমবার । ৪ জুলাই ২০২২ । ২০ আষাঢ় ১৪২৯ । ৪ জিলহজ ১৪৪৩

যখন প্রয়োজন তখনই পাশে দাঁড়াচ্ছে আনসার বাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

১০ জুন, ২০২২ ১৪:২৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যখন প্রয়োজন তখনই পাশে দাঁড়াচ্ছে আনসার বাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আনসার বাহিনী আমাদের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। যখনই সংকট তখনই আমরা দেখছি আনসার বাহিনী  তাদের দক্ষতা দিয়ে সাহসিকতা দিয়ে কাজ করছে। যখনই প্রয়োজন তখনই জনগণের পাশে দাঁড়াচ্ছে। বর্তমান সরকারের বিগত ১২ বছরের সময়কালে এ বাহিনীর সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক প্রবর্তন, পারিবারিক রেশন প্রদান, সাহসী ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয় পদক প্রবর্তন, কর্মকর্তাদের জন্য দ্বিতীয়, তৃতীয় ও ৫ম গ্রেডে পদ সৃজন এবং মহাপরিচালকের পদটি প্রথম গ্রেডে উন্নতীকরণ, অন্যান্য পদের মানোন্নয়ন ও কর্মকর্তাদের বৈশ্বিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি একাডেমিতে আজ শুক্রবার সকালে নবনিযুক্ত ব্যাটালিয়ন আনসারের (২২তম ব্যাচ-পুরুষ) মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, উপজেলা প্রশিক্ষকদের উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ১৫টি ব্যাটালিয়ন সদরে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে মডেল ব্যাটালিয়নের রূপ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ব্যাটালিয়নগুলোর উন্নয়ন প্রক্রিয়াধীন। বিভিন্ন রেঞ্জ, জেলা-উপজেলাতে মডেল রেঞ্জ, জেলা ও উপজেলা অফিস নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাহিনীর সকল সদস্যদের কল্যাণের জন্য ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য ৪০টি অস্ত্রাগার নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে।

নবীন ব্যাটালিয়ন আনসারদের ২২তম ব্যাচ (পুরুষ) এর ৬ মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচাকাওয়াজের শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল একটি সুসজ্জিত খোলা জিপে প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে প্রশিক্ষণার্থীরা ৬টি সারিতে মার্চপাস্ট করে প্রধান অতিথিকে অভিবাদন জানান।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন ও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক, কমান্ড্যান্ট, উপ-মহাপরিচালক (প্রশাসন), উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস)-সহ সদর দপ্তর ও একাডেমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।  

৪৪২ জন নবনিযুক্ত ব্যাটালিয়ন আনসার ৬ (ছয়) মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে সমাপনী কুচাকাওয়াজে অংশ নেন। প্রধান অতিথি কৃতি ও চৌকস প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন। এবার মৌলিক প্রশিক্ষণে মো. সাগর আলী শ্রেষ্ঠ ড্রিল, শরিফুল ইসলাম শ্রেষ্ঠ ফায়ারার এবং মো. গুলজার আলী চৌকস প্রশিক্ষণার্থী ব্যাটালিয়ন আনসার হিসেবে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

পুরস্কার প্রদান শেষে প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থী নবীন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদের উদ্দেশে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি বিশেষায়িত গার্ড ব্যাটালিয়নসহ নতুন আনসার ব্যাটালিয়ন গঠন, ব্যাটেলিয়ান আনসার সদস্যদের স্থায়ীকরণের মেয়াদ হ্রাস এবং আনসার ব্যাটালিয়নের তিনটি পদবির বেতন গ্রেডের ধাপ উন্নীত করা হয়েছে। সেগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি প্রশিক্ষণলদ্ধ জ্ঞান, মেধা, শ্রম ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সদস্যরা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অনন্য উচ্চতায় এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।  

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে বাহিনীর সুনাম এবং ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কতর্ব্য সঠিকভাবে পালন করে আপনারা দেশ এবং জাতির সার্বিক উন্নয়নে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবেন। এছাড়া সুশৃঙ্খল প্রশিক্ষণ আয়োজন ও পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকসহ প্রশিক্ষণের সাথে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকবৃন্দকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পরে সংঘবদ্ধ মার্চ পাস্ট এর মাধ্যমে কুচকাওয়াজের সমাপ্তি ঘটে।



সাতদিনের সেরা