kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

সৌদিতে শরীফের মৃত্যুকে 'রহস্যজনক' বলছে পরিবার

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

২৭ মে, ২০২২ ২০:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৌদিতে শরীফের মৃত্যুকে 'রহস্যজনক' বলছে পরিবার

সৌদি আরবের কর্মস্থল আল গাসিম এলাকায় বাংলাদেশের যুবক শরীফ হোসেনের (২২) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শরীফ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরফলকন ইউনিয়নের জাজিরা এলাকার মো. সিরাজের ছেলে।  

পরিবারের দাবি, শরীফকে হত্যা করা হয়েছে। সৌদিতে বাংলাদেশি দূতাবাসের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও লাশ দেশে আনার জন্য বৃহস্পতিবার (২৬ মে) কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবার লিখিত আবেদন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পরিবার সূত্র জানায়, প্রায় ৭ মাস আগে খেজুরের বাগানে কাজ করার উদ্দেশ্যে শরীফ সৌদিতে যায়। কমলনগরের হাজিরহাট ইউনিয়নের সৌদিতে কর্মরত আলাউদ্দিনের মাধ্যমে তিনি সেখানে গেছেন। কিন্তু তাকে খেজুরের বাগানে কাজ দেওয়ার পরিবর্তে আলাউদ্দিন একটি কসাইখানায় (মাংসের দোকানে) চাকরি দেয়। ওই দোকানের মালিক তাকে প্রায়ই মারধর করে বলে শরীফ পরিবারকে জানিয়েছে। পরে তার বাবা সিরাজ ঘটনাটি আলাউদ্দিনকে মোবাইলফোনে জানায়। কিন্তু আলাউদ্দিন কোনো গুরুত্ব দেয়নি। সম্প্রতি আলাউদ্দিন ছুটিতে দেশে আসে। আলাউদ্দিন ছুটিতে আসার পর থেকে শরীফের সাথে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সিরাজ ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে আলাউদ্দিনের সাথে শরণাপন্ন হয়। কিন্তু আলাউদ্দিন জানায়, শরীফ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় গত ৮ মার্চ শরীফের বাবা আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কমলনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে দূতাবাসের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে শরীফের লাশ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আলাউদ্দিনকে চাপ দেওয়া হয়। বৈঠকের কয়েকদিন পর আলাউদ্দিন ফের সৌদিতে চলে যায়। এরপর থেকে তিনি শরীফের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

নিহত শরীফের বাবা মো. সিরাজ বলেন, 'ধারদেনা করে ছেলেকে সৌদি পাঠিয়েছি। কসাইয়ের দোকানের মালিক আমার ছেলেকে নির্যাতন করত। এখন শুনি আমার ছেলে মারা গেছে। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার ও আমার ছেলের লাশ ফেরত চাই। '

অভিযুক্ত আলাউদ্দিনের স্ত্রী ফেরদাউস বেগম বলেন, 'সৌদি থেকে লাশ ফেরত পাঠানোর সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন স্থানীয় চেয়ারম্যানের একটি প্রত্যয়নপত্র পাঠালেই মরদেহ দ্রুত চলে আসবে। শরীফের সঙ্গে এলাকায় এক মেয়ের প্রেম ছিল। ওই মেয়ে আরেক ছেলের সঙ্গে ছবি তুলে শরীফকে পাঠায়। এতে ক্ষোভে শরীফ আত্মহত্যা করে। '

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, সৌদি থেকে শরীফের মরদেহ আনার জন্য আবেদন করেছে পরিবার। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। '



সাতদিনের সেরা