kalerkantho

রবিবার । ৩ জুলাই ২০২২ । ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ । ৩ জিলহজ ১৪৪৩

চকরিয়ায় ডাকাত সর্দার নিহতের ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি চেয়ারম্যান!

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

২৬ মে, ২০২২ ২৩:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চকরিয়ায় ডাকাত সর্দার নিহতের ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি চেয়ারম্যান!

ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর।

কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রিজার্ভপাড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিবাদমান দুই সন্ত্রাসী দলের গোলাগুলিতে ফেরার আসামি আমির হোসেনের (৪৫) নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর উপস্থিত থেকে আমির হোসেনকে হত্যা করিয়েছে মর্মে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। গত সোমবার (২৩ মে) রাতে হত্যাকাণ্ডের দুইদিন পর আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকেলে থানায় মামলাটি রুজু করেন নিহতের স্ত্রী ছকিনা ইয়াছমিন।

মামলায় এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে ১০ জনকে।

বিজ্ঞাপন

তন্মধ্যে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদরকে প্রধান আসামি করা হয়। বাকিরা হলেন- দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার বাহিনী প্রধান ডুমখালীর আবদুর রহমান, সালাহউদ্দিন, ছরওয়ার, উলুবুনিয়া গ্রামের সিরাজ মিয়া, ডুমখালীর রেজাউল, আবু ছালাম, বাহাদুর মিয়া, ছরওয়ার আলম ও বাবু মিয়া। এছাড়াও আরো ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়েছে।

এজাহারে বাদী ছকিনা ইয়াছমিন দাবি করেছেন- সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার স্বামী আমির হোসেন বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধাচারণ করেছেন। তাই আমির হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

তবে হত্যাকাণ্ডের মতো জঘন্যতম ঘটনায় কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে এই ধরণের অভিযোগ শতভাগ মিথ্যা দাবি করেন মামলার প্রধান আসামি ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর। তিনি বলেন, ‘বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পরাজিতরা একজোট হয়ে আমার বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের গোলাগুলিতে নিহত আমির হোসেনের পরিবারকে হাত করে ও ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করাতে বেশ তৎপর হয়ে উঠে পরাজিতরা। ’

চেয়ারম্যান আদর দাবি করে বলেন, মামলার এজাহারে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার যে সময় উল্লেখ করা হয়েছে তখন তিনি চকরিয়া পৌর শহরে ছিলেন। আর তা প্রমাণে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তাছাড়া দুই সন্ত্রাসী দলের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির খবর পাওয়া মাত্রই থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ সময় হাতে মাইক নিয়ে এলাকাবাসীকে অভয় দেওয়া, শান্ত থাকাসহ ডাকাতদের গ্রেপ্তার অভিযানে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। তখন আমার সঙ্গে পুলিশও ছিলেন। এ সময় আমির হোসেনের (নিহত) স্ত্রী ছকিনা ও ছেলে আমাকে জড়িয়ে ধরে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। এই দৃশ্য সবাই দেখেছেন এবং অনেকেই ফেসবুকে লাইভও দেন। যা শত শত মানুষ শেয়ারও করেছেন। ’

আদর আরো বলেন- ‘যদি আমি আমির হোসেন হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকতাম তাহলে কেনই বা আমার কাছে বিচার দাবি করলেন নিহতের স্ত্রী ও সন্তান। এতেই বুঝা যাচ্ছে নির্বাচনে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। ’

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিবদমান দুই সন্ত্রাসী দলের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সময় আমির হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় স্ত্রী ছকিনা ইয়াছমিন এজাহার দিলে তা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ঘটনায় সম্পৃক্ত নয় এমন কাউকে আসামি করা হয়ে থাকলে তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। সে অনুযায়ী পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’



সাতদিনের সেরা