kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

৫ বছর ধরে চার আওয়ামী লীগ নেতার সন্ধান চাইছে পরিবার

নরসিংদী প্রতিনিধি   

২৬ মে, ২০২২ ২২:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৫ বছর ধরে চার আওয়ামী লীগ নেতার সন্ধান চাইছে পরিবার

নরসিংদীতে পাঁচ বছর আগে রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের চার আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রকাশ্যে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এর পর থেকে তাদের কোনো হদিস পায়নি পরিবারের লোকজন। তাদের ফিরে পেতে মানববন্ধন করেছে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এতে নিখোঁজ চার ব্যক্তির পরিবারের সদস্যসহ দেড় শতাধিক এলাকাবাসী অংশ নেয়।

নিখোঁজ চারজন হলেন রায়পুরার বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সহসভাপতি রূপ মিয়া মেম্বার, ক্রীড়া সম্পাদক হাবিব মেম্বার, ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকির হোসেন।

মানববন্ধনে স্বজনরা বলেন, ২০১৭ সালের ২৬ মে বিকেলে বালুয়াকান্দি গ্রাম থেকে আওয়ামী লীগ নেতা রূপ মিয়া ও যুবলীগ নেতা আজিজুল এবং বাঁশগাড়ী গ্রাম থেকে আওয়ামী লীগ নেতা হাবিব ও জাকির হোসেনকে ধরে নিয়ে যায় রায়পুরা থানার পুলিশ। পরে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের আটকে রাখা হয় বাঁশগাড়ী পুলিশ ফাঁড়িতে। সেখান থেকে রাতে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানতে পারলেও পরদিন থানা ও আদালতে তাদের খোঁজ মেলেনি। বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে আসা একটি চক্রের পক্ষ থেকে ঘুষ পেয়ে পুলিশ এই চারজনকে তুলে নিয়ে গুম করেছে বলে দাবি স্বজনদের।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিখোঁজ আজিজুল ইসলামের মা নুরজাহান বেগম, রূপ মিয়া মেম্বারের স্ত্রী রানোয়ারা বেগম, হাবিবের স্ত্রী নাছিমা বেগম, জাকিরের মা ছালেহা বেগম ও ছেলে বিল্লাল হোসেনসহ কয়েকজন।

নিখোঁজ হাবিব মেম্বারের স্ত্রী নাছিমা বেগম বলেন, 'বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে আসা স্থানীয় হাইব্রিড আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বর্তমানে প্রয়াত সিরাজুল হক ও তার সমর্থকরা মিলে পুলিশকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে গুম করিয়েছে। আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই। '

নিখোঁজ আজিজুল ইসলামের বড় ভাই হরুন মিয়া বলেন, 'আমার ভাইকে গুম করার পর ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর আমাকেও বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। নরসিংদী সদর টু মদনগঞ্জ রোডে নিয়ে রাতের আঁধারে পায়ে গুলি করে পুলিশ। পরে নিজেরাই হাসপাতাল ভর্তি করে। আমাকে অস্ত্র মামলা দিয়েছে। তখন আড়াই মাস জেলে খেটেছি আমি। আমি আমার ভাইয়ের খোঁজ চাই। '

রূপ মিয়া মেম্বারের ভাতিজা মাইন উদ্দিন বলেন, 'প্রবাসী হিসেবে ১৬ বছর সৌদি আরবে ছিলাম। আমার কাকার নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে দেশে ফিরে আসি। থানা, জেলখানা, আদালত কোথাও তাকে খুঁজে পাইনি। পুলিশ উল্টো অভিযোগ করে আমরা নাকি তাদের কাছ থেকে চারজনকে ছিনিয়ে নিয়েছি। পরে আমাকেও ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করেছে। একটা পা নাই আমার, আমাকেও অস্ত্র মামলা দিয়েছে পুলিশ।   আনুমানিক চার মাস জেল খেটেছি। যেই অবস্থাতেই হোক, আমার ভাইসহ চারজনকে ফেরত চাই আমি। '



সাতদিনের সেরা