kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

সুন্দরবনের আগুন প্রতিরোধে ৪ প্রস্তাব, বাস্তবায়ন হয়নি ৫ বছরেও

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)   

২৬ মে, ২০২২ ১৯:৩৪ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



সুন্দরবনের আগুন প্রতিরোধে ৪ প্রস্তাব, বাস্তবায়ন হয়নি ৫ বছরেও

পাঁচ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি সুন্দরবনের অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে গৃহীত চার প্রস্তাব। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার আওতাধীন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনে ২০১৬ সালের ২৭ মার্চ থেকে ২০১৭ সালে ২৬ মে পর্যন্ত পাঁচবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অগ্নিকাণ্ড এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন তৎকালীন প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. ইউনুচ আলী। এ সময় স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময়কালে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে ভোলা নদী খনন, লোকালয়ের পাশ থেকে কাঁটাতারের বেষ্টনী, ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু তা আলোর মুখ দেখেনি আজও।

অন্যদিকে সর্বশেষ ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর এবং ৩ মার্চ শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারাণী টহল ফাঁড়ির কাছে দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের পর (৮ মার্চ ২০২১) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনিও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে ভোলা নদী খননের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দেন। শিগগিরই খননকাজ শুরু হবে পারে ওই সময় বলেছিলেন তিনি। তার সেই প্রতিশ্রুতিরও এক বছর পার হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে বন বিভাগ বলছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিশেষ করে ভোলা নদী ভরাট হওয়ায় যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে অগ্নিকাণ্ডসহ বন অপরাধ, তেমনি বনের বাঘ, হরিণ ও অন্যান্য বন্য প্রাণী অহরহ চলে আসছে লোকালয়ে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৩ মে ২০২২) বিকেলে ভোলা নদী পার হয়ে সুন্দরবন থেকে একটি চিত্রল হরিণ এবং একটি অজগর সাপ বনসংলগ্ন ধানসাগর গ্রামে চলে আসে। পরে হরিণ ও অজগরটি বনরক্ষীরা উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেন। গত ৫ মে শরণখোলার ধানসাগর ইউনিয়নের বনঘেঁষা টগরাবাড়ী গ্রামে চলে আসে একটি বাঘ (রয়েল বেঙ্গল টাইগার)। বাঘটি বেশ কয়েক দিন ধরে আশপাশের গ্রামগুলোতে বিচরণ করে। এতে ১০ গ্রামের মানুষের মাঝে বাঘ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ১৮ মে সকালে পশ্চিম রাজাপুর গ্রাম থেকে বিশাল এক অজগর সাপ উদ্ধার হয়। গত ২৪ এপ্রিল দুপুরে ধানসাগর গ্রামে একটি বাঘ ঢুকে আফজাল হাওলাদারে একটি গরু এবং ৩১ মার্চ দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের সোবাহান হাওলাদারে একটি মহিষের ওপর আক্রমণ করে। ২৫ মার্চ রাতে উত্তর রাজাপুর গ্রামের জলিল মাস্টারের বাড়িতে বাঘ ঢুকে পড়ে। এ ছাড়া ৬ এপ্রিল দুপুরে ভোলা নদী পার হয়ে দুটি হরিণ পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে চলে আসে। গ্রামবাসীর তাড়া খেয়ে একটি বনে ফিরে যায়, অপরটি ধরে বনে অবমুক্ত করা হয়। ভোলা নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণে খুব সহজেই গ্রামে চলে আসছে এসব বন্য প্রাণী।

এদিকে বর্তমানে চলছে সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ড মৌসুম। এত বছর পর প্রতিশ্রুতিগুলোর একটিও বাস্তাবায়ন না হওয়ায় নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে পরিবেশবাদী, স্থানীয় সচেতন মহল ও বনের বৈধ পেশাজীবীদের। ফের যেকোনো সময় বনে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। বারবার আগুন লাগার পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন তারা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হচ্ছে বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতি লোভ, বনসংলগ্ন বাসিন্দাদের বনে অবাধ অনুপ্রবেশ, অবৈধভাবে মাছ শিকার ও মধু আহরণ এবং বন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া। প্রতিবছর ঘুরেফিরে বনের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় আগুন লাগায় কারণে এ বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাদের কাছে। সুন্দরবন সুরক্ষায় পূর্বের গৃহীত প্রস্তাবনার বাস্তবায়ন এবং বন আইন সংশোধন করে চলমান মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ করেছেন তারা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০২ সালের ২২ মার্চ প্রথম আগুন লাগে শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য এলাকায়। এরপর সর্বশেষ ২০২১ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত ২০ বছরে ২৪ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে পূর্ব সুন্দরবনে শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের বনাঞ্চলে। এর মধ্যে সর্বাধিক ১৮ বার অগ্নিকাণ্ড ঘটে শুধু চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের এলাকার বনে। এসব অগ্নিকাণ্ডের প্রত্যেকটিতেই তদন্ত কমিটি গঠন এবং অজ্ঞাতদের আসামি করে বন বিভাগীয় মামলা করা হয়। কিন্তু এসব মামলার বা তদন্ত কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি আজও। তবে এতগুলো অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে কেবল ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পর পর পাঁচবার আগুনের ঘটনায় শরণখোলা ও মোংলা থানায় তিনটি মামলা দায়ের করে বন বিভাগ। ওই মামলায় শরণখোলার উত্তর ও পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাগুলো করা হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভোলা নদী বেষ্টিত শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারাণী টহল ফাঁড়ি থেকে চাঁদপাই রেঞ্জের চাঁদপাই স্টেশন পর্যন্ত লোকালয়ের কোল ঘেঁষে ধানসাগর, চাঁদপাই, জিউধরাসহ তিনটি স্টেশন এবং ১০টি টহল ফাঁড়ি রয়েছে। এসব স্টেশন ও ফাঁড়ি অফিসগুলো বনের মধ্যে বয়ে যাওয়া ভোলা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত শাখা খাল ও ভারাণী খালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। বর্তমানে ভোলা নদী ভরাট হওয়ায় বনের ওই শাখা খালগুলোও মরে গেছে। এসব খাল থেকে মৌসুমভেদে লবণ ও মিষ্টি পানি প্রবাহিত হয়। এতে বনের অভ্যন্তর প্লাবিত হয়ে সুন্দরী, গরান, গেওয়াসহ নানা প্রজাতির গাছ জন্মায়। কিন্তু ভোলা নদী ভরাট হওয়ায় শাখা খালগুলো মরে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে লবণ ও মিষ্টি পানির সংমিশ্রণ না পেয়ে বনের এসব অঞ্চলে সুন্দরী ও অন্যান্য গাছ আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে।

এসব বিলকে কেন্দ্র করে বন সন্নিহিত মোংলা উপজেলার জয়মনি গ্রাম থেকে শুরু করে শরণখোলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রাম পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫টি গ্রামে ৪০ থেকে ৫০টি জিওল মাছ ধরা সক্রিয় গ্রুপ গড়ে উঠেছে। তারা আশ্বিন মাস থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত এই ছয় মাসে এসব বিল থেকে কমপক্ষে কোটি টাকার জিয়ল মাছ আহরণ করে থাকে। এসব জিয়ল মাছ খুলনা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান করা হয়। এ জন্য ধানসাগর স্টেশনের কর্মকর্তা (এসও) হিসেবে যে যখন দায়িত্বে থাকেন তারাই মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে বনের খাল ও বিলগুলো অলিখিতভাবে লিজ (ইজারা) দিয়ে থাকেন। ইজারা নেওয়া খাল-বিলে নির্দিষ্ট জেলের বাইরে অন্য কেউ পাস নিয়েও ঢুকতে পারে না। বনের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে মাছ ধরার উপযোগী করতে বিলগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়।

অন্যদিকে মধু আহরণ মৌসুমেও পাসবিহীন মৌয়ালদের কাছ থেকে মধু ও টাকা উৎকোচ নিয়ে বনে প্রবেশের সুযোগ দেন অসাধু বনরক্ষকরা। একইভাবে বনসংলগ্ন গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছে ১৫-২০টি অবৈধ মধু সংগ্রহকারী দল। অবৈধ মৌয়ালরা মৌমাছি তাড়ানোর জন্য মশাল ব্যবহার করেন। অসতর্কতাবশত তাদের মশালের আগুনের ফুলকি শুষ্ক বনে পড়ে আগুন ধরে যায়। সর্বশেষ ২০২১ সালের ৩ মে দাসের ভারাণীর বনে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডটি মধু আহণের মশাল থেকেই হয়েছে বলে বন বিভাগের তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।

এ ছাড়া সুন্দরবন এবং লোকালয়ের মধ্যবর্তী ভোলা নদীটি ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে বর্তমানে সরু খালে পরিণত হয়েছে। নদীটির অনেক স্থানে ভরাট হয়ে বন এবং লোকালয়ে মিশে আর একাকার হয়ে গেছে। এই নদীতে জোয়ারের সময় পানি থাকে মাত্র চার ফুট আবার কোনো স্থানে ছয় ফুট। আর ভাটির সময় থাকে কোথায় হাঁটুপানি, কোথাও কোমর সমান। এ কারণে বনের পাশের গ্রামগুলোর মানুষ যেকোনো সময় হেঁটে বনে ঢুকে যায়। মাছ ধরা, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ বা সামান্য কোনো কিছুর প্রয়োজন হলেই তারা অবাধে বনে প্রবেশ করে। এই অনুপ্রবেশকারীরা বনে ঢুকে বিড়ি-সিগারেট খেয়ে তার অবশিষ্টাংশ বনে নিক্ষেপ করে। সেই বিড়ির আগুন থেকেও বনে আগুন লাগার আরো একটি কারণ বলে চিহ্নিত করা হয়।

বনসংলগ্ন শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন খান বলেন, 'আমাদের এলাকার শত শত জেলে বৈধ পাস পারমিট নিয়ে বনে মাছ ধরতে যায়। তাদের মাধ্যমে কোনো দিন আগুন লাগার খবর শোনা যায়নি। অবৈধ মাছ ধরা পার্টির কারণে বন ধ্বংস হচ্ছে। এই অবৈধ কাজে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। '

খুঁড়িয়াখালী গ্রামের মধু ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌস খান বলেন, বারবার বনের নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় আগুন লাগার পেছনে অবৈধ মধু আহরণকারীরাও জড়িত। বৈধ পাস নিয়ে মৌয়ালরা মধু আহরণ করতে যায় বনের গহিনে। অথচ সেখানে কোনো দিন আগুন লাগেনি।

বন সুরক্ষায় নিয়োজিত কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) ভোলা টহল ফাঁড়ির দলনেতা মো. খলিল জমাদ্দার, দাসের ভারাণী টহল ফাঁড়ির দলনেতা মো. ইয়াসিন হাওলাদার এবং দাসের ভারাণী ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের (ভিটিআরটি) দলনেতা মো. দুলাল চাপরাসি বলেন, অবৈধভাবে মৎস্য ও মধু আহরণকারীরাই বনে আগুন লাগায়। ধানসাগর স্টেশনের বন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একেকটি খাল ও বিল মৌসুমে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় উৎকোচ নিয়ে প্রভাবশালীদের কাছে লিজ দেন। তাদের নির্দিষ্ট লোকের বাইরে অন্য কোনো জেলে পাস নিয়ে গেলেও তাদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয় না। ধানসাগর স্টেশনের আওতাধীন বনে এটা যুগ যুগ ধরে চলছে। ধানসাগর স্টেশন একটি লোভনীয় স্টেশন। এখানে গ্রীষ্ম ও বর্ষা দুই মৌসুমই বেশ আয়ের জায়গা।

ধানসাগর স্টেশনের দায়িত্বে যে যখন থাকেন তারাই এই অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বন কর্মকর্তা ও কয়েকজন বনরক্ষী এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সুন্দরবন সহব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) শরণখোলা উপজেলার সহসভাপতি এম ওয়াদুদ আকন বলেন, ধানসাগর স্টেশনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর লোভের কারণেই বারবার পুড়ছে বন। আগুন লাগা বন্ধ করতে হলে অবৈধ মধু আহরণ ও মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে।

সিএমসির এই নেতা বলেন, 'বন অপরাধে তদন্ত কমিটি ও বিভিন্ন সময় মামলা হলেও তা আলোর মুখ দেখে না। এ জন্য বন আইন সংশোধন করে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা হলে অপরাধও কমে আসবে। তা ছাড়া আমরা বহুবার বনের পাশ থেকে কাঁটাতারের বেড়া, ওয়াচ টাওয়ার এবং ভোলা নদী খননের দাবি জানিয়ে এলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বনে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে না পারলে কোনো আইনে কাজ হবে না। '

দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন নিয়ে গবেষণা করছে ‘সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন’ নামে একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা। এই সংস্থার চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বনে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'সুন্দরবনে মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি হয়। বনে আগুন লাগা এটিও মানবসৃষ্ট। গবেষণকালে আমরা বিভিন্ন সোর্স থেকে জেনেছি, আগুন লাগার পেছনে মূল কারণ অবৈধ মাছ শিকার, মধু আহরণ এবং বনে অবাধ অনুপ্রবেশ। '

ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম আরো বলেন, কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারী এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ভোলা নদী মরে যাওয়ায় স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ভোলা নদী সংশ্লিষ্ট বনের শাখা নদী-খালও মরে গেছে। যে কারণে এ অঞ্চলে সুন্দরী ও অন্য কোনো বড় গাছপালা জন্মায় না। ভোলাসহ বনের অভ্যন্তরের মরা নদী-খাল খনন করে পানিপ্রবাহ সৃষ্টির মাধ্যমে সুন্দরবনকে লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। কাঁটাতারের বেষ্টনী, নিরাপত্তা চৌকি নির্মাণ, টহল জোরদার এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। বন বিভাগকে আধুনিকায়ন করতে হবে। তাহলে অগ্নিকাণ্ডসহ বন অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বাগেরহাট জেলার আহ্বায়ক মো. নূর আলম শেখ বলেন, বনে পরিকল্পিতভাবেই আগুন লাগানো হয়। অবৈধ পেশাজীবীর পাশাপাশি এর সঙ্গে বন বিভাগের অসাধু ব্যক্তিরাও জড়িত। ফলে অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিচারের আওতায় আনা এবং বন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি না করলে অপরাধের মাত্র আরো বৃদ্ধি পাবে। শুষ্ক মৌসুমেই বনে আগুন লাগে। যেসব এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে বন বিভাগের নজরদারি বাড়াতে হবে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষায় সরকারকে আরো কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

সুন্দরবন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো বলেন, সুন্দরবনের অবাধ প্রবেশ ঠেকাতে এবং বাঘ, হরিণসহ বন্য প্রাণী যাতে লোকালয়ে আসতে না পারে সে জন্য বাঘ সংরক্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০ কিলোমিটার নাইলনের নেট দিয়ে ফেন্সিং করা হবে। একই প্রকল্পের মাধ্যমে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। চলতি বছরের মার্চে এই প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে।

এ ছাড়া সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় ভরাট হওয়া ভোলা নদী পুনঃখননের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে শুরু হতে পারে খননকাজ।

অগ্নিকাণ্ডসহ বন অপরাধের সঙ্গে বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সিএফ মিহির কুমার দো বলেন, কোনো বন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে উৎকোচের বিনিময়ে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বিচারাধীন মামলাগুলো যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি হয় সে ব্যাপারেও চেষ্টা করা হবে।



সাতদিনের সেরা