kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

গোসলের ভিডিও ধারণ, ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বারবার ধর্ষণ!

রংপুর অফিস   

২৬ মে, ২০২২ ১৮:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গোসলের ভিডিও ধারণ, ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বারবার ধর্ষণ!

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় এক গৃহবধূর (৩৬) গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা মাজেদুল ইসলাম বসুনিয়ার (২৮) বিরুদ্ধে।

গতকাল বুধবার (২৫ মে) রাতে এ ঘটনায় অভিযুক্তকে রংপুর নগরীর কেরামতিয়া এলাকা থেকে র‌্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে দুই মাস আগে। মামলাটি হয় দুই আইনে।

বিজ্ঞাপন

একটি নারী শিশু ও নির্যাতন দমন আইনে, আরেকটি পর্নোগ্রাফি আইনে। এর আগে ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মে) দুপুরের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাজেদুল কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়ের মৃত মহির উদ্দিন বসুনিয়ার ছেলে এবং হারাগাছ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে জানা যায়।

রংপুরের কাউনিয়া থানার পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়নে এক গৃহবধূর দুই সন্তানকে তিন-চার বছর আগে প্রাইভেট পড়াতেন একই এলাকার ওই কলেজছাত্র। গৃহশিক্ষক হিসেবে বাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে একদিন গোপনে ওই গৃহবধূর গোসলের ভিডিও ও ছবি ধারণ করেন মাজেদুল ইসলাম। পরে সেই ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর ভয় দেখানোসহ তাঁর ছেলেদের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ মাজেদুলের বিরুদ্ধে।

২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর কেউ না থাকার সুযোগে মাজেদুল আবারও ওই বাড়িতে গিয়ে গৃহবধূকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ নিরুপায় হয়ে ছেলেদের নিয়ে ঢাকায় চলে যান। কিন্তু সেখানে গিয়েও রেহাই পাননি গৃহবধূ। ঢাকায় থাকা অবস্থায় ওই গৃহবধূকে শারীরিক সম্পর্কের কথা জানালে তিনি রাজি না হওয়ায় অন্য নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে গত ১২ মার্চ তাঁর ছোট ছেলের (১৭) মেসেঞ্জারে আপত্তিকর ছবি পাঠান মাজেদুল।

এ ছাড়া একই দিন বড় ছেলের (১৮) এক বন্ধুর মেসেঞ্জারেও পাঠিয়ে দেন সেই আপত্তিকর ছবি। অবশেষে ওই নারী ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসে গত ১১ এপ্রিল কাউনিয়া থানায় মাজেদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুমুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্ত মাজেদুল গাঢাকা দেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার যৌথ অভিযানে রাতে থানা পুলিশ ও রংপুর র‌্যাব-১৩ যৌথ অভিযান চালিয়ে রংপুর মহানগরীর কেরামতিয়া এলাকা থেকে মাজেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি আরো বলেন, ওই নারী গত ১১ এপ্রিল থানায় এসে মাজেদুলের বিরুদ্ধে গোপনে গোসলের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ধারা অনুযায়ী দুটি মামলা হয়েছে। একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় এবং পর্নোগ্রাফি আইনের ৮(১)(২)(৩) ধারায় মামলাভুক্ত করা হয়।

রংপুর জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-সি) আশরাফুল আলম পলাশ কালের কণ্ঠকে জানান, মামলার পর অভিযুক্ত মাজেদুল গাঢাকা দেন। অবশেষে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৩, ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশাল কম্পানি, রংপুর ক্যাম্প কমান্ডার মেজর সরফরাজ আখতার যৌথ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিকে কাউনিয়া থানার পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা