kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

ক্ষুধা আর নির্যাতন, অশীতিপর ছেবাতন বেওয়া থানায়

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৬ মে, ২০২২ ১৭:৪৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ক্ষুধা আর নির্যাতন, অশীতিপর ছেবাতন বেওয়া থানায়

স্বামীকে হারিয়েছেন এক যুগ হলো। সেই থেকে ছেলে আর ছেলের বউয়ের গলগ্রহ হয়ে আছেন সংসারে। জোটে না চিকিৎসা-ওষুধ-পথ্য। জাকাতের কাপড়ে সারা বছর পার করেন।

বিজ্ঞাপন

এর পরও খেতে চাইলে জোটে নানা গালাগাল। তবু উপায় না থাকায় ছেলের বউয়ের মর্জিমতো খাবারে বেঁচে আছেন অশীতিপর ছেবাতন বেওয়া।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবাড়ী গ্রামের ছেবাতন বেওয়া ক্ষুধার জ্বালা আর ছেলে-ছেলেবউয়ের জুলুম-অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আজ (২৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় কাজিপুর থানায় হাজির হন।

থানা কম্পাউন্ডে বৃদ্ধাকে দেখে নিজের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন ওসি শ্যামল কুমার দত্ত। বৃদ্ধাকে তিনি নিজের কক্ষে নিয়ে বসান। এ সময় ক্ষুধায় ছটফট করছিলেন তিনি। তৎক্ষণাৎ ওসি তাঁর জন্য খাবার এনে দেন। খাওয়া শেষে শোনেন কিভাবে ছেলে আর ছেলের বউয়ের অত্যাচার সহ্য করে ওই সংসারে পড়ে আছেন বৃদ্ধা। সব শুনে পুলিশের একটি টিমকে তাঁর বাড়িতে পাঠান। এর আগে ছেবাতনকে তিনি একটি শাড়ি ও নগদ অর্থ সহায়তা করেন।

কাজিপুর থানার টিম বৃদ্ধাকে তাঁর বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ছেলে আসাদুল ইসলাম এবং ছেলেবউ চুম্বলী খাতুনকে সতর্ক করে দেয়। তাঁরা বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে আর কখনো খারাপ আচরণ ও ভাত-কাপড়ের কষ্ট দেবেন না বলে পুলিশকে কথা দেন।

ওসি বলেন, 'অসহায়কে সহায়তা করা পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব। কষ্ট পেয়েছি এ বয়সেও ছেলের অত্যাচার সহ্য করতে হয় বৃদ্ধা মাকে। জানামাত্র তাঁকে সামান্য সহায়তা করেছি এবং সংসারে যাতে তিনি আর কষ্ট না পান সে বিষয়ে তাঁর ছেলেকে সতর্ক করা হয়েছে। '



সাতদিনের সেরা