kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

লৌহজংয়ে ড. জাফর ইকবাল

আমরাও স্যাটেলাইট বানিয়ে মহাকাশে পাঠাতে পারব

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি    

২৬ মে, ২০২২ ১৩:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমরাও স্যাটেলাইট বানিয়ে মহাকাশে পাঠাতে পারব

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ ইউরোপ-আমেরিকার মতো দেশে পরিণত হবে। তখন আমরাও পারব স্যাটেলাইট বানাতে, মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠাতে। এর থেকেও বড় কিছু আমরা আবিষ্কার করতে পারব। তখন ইউরোপ-আমেরিকার মতো দেশগুলো আমাদের কাছে আসবে।

বিজ্ঞাপন

আমরা ২০৪১ সালে বিজ্ঞানে অনেক দূর এগিয়ে যাব। আমাদের ইচ্ছাই আমাদের সেখানে নিয়ে যাবে। এখনই আমরা জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছি।  

আজ বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ও আর্থ-সামাজিক গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান অবারিত বাংলার সহায়তায় এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. জাফর ইকবাল বলেন, পৃথিবীর সম্পদ হচ্ছে জ্ঞান। আর শিক্ষার্থীরা হচ্ছে মূল্যবান সম্পদ। পড়ালেখা করলে মূল্যবান সম্পদ হওয়া যাবে। বিজ্ঞান পড়া মোটেও কঠিন না। বিজ্ঞানের জন্য প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন নেই। ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম শুরু হয়েছে। এ কারিকুলাম সারা দেশে চালু হবে। সেখানে বিজ্ঞানকে অনেক সহজ করে তুলে ধরা হয়েছে। মুখস্থ না করে বুঝে পড়ায় আনন্দ আছে। সবার উচিত মুখস্থ না করে বুঝে পড়া। মুখস্থ করলে কল্পনাশক্তি কমে যায়। শুধু বিজ্ঞান নয়, যেকোনো বিষয় নিয়েই গবেষণা করা যায়।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি আনন্দ গবেষণায়। এ আনন্দ আর কিছুতে নেই। কারণ গবেষণায় নতুন কিছু বের করা যায়। যখন গবেষণা করে নতুন কিছু বের করা হয়, তখন সে আনন্দের আর সীমা থাকে না।

উপজেলার পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির দুই হাজার ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে বিজ্ঞানমনস্কতা সৃষ্টি ও তাদের বিজ্ঞান পড়তে আগ্রহী করে তোলার জন্য 'এসো বিজ্ঞান শিখি, প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়ি' শীর্ষক এ আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.  আবদুল আউয়াল। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক জাফর ইকবাল তার স্বভাবসুলভ ও প্রাণগ্রাহী বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বিজ্ঞানের কঠিন বিষয়গুলো মজার ছলে ছাত্র-ছাত্রীদের গল্পের মতো করে উপস্থাপন করেন।

উপস্থিত প্রায় দুই হাজার ছাত্র-ছাত্রী ও দুই শতাধিক শিক্ষক তার বক্তব্য শোনেন। তিনি আধুনিক মনন গঠনে রূপকথার মতো আনন্দ নিয়ে বিজ্ঞানকে ধারণ করে বাস্তব ও ব্যাবহারিক জীবনে কাজে লাগাতে প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান।  

বিশেষ অতিথি ড. জাফর ইকবালের সহধর্মিণী ও পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক বলেন, সরকার তথ্য-প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উন্নতি করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সে জন্য শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার প্রশংসা করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, বিক্রমপুরের মাটি একসময়  জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার পীঠস্থান ছিল। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু এ মাটির সন্তান। আর এখানে বিজ্ঞান ও গবেষণার মান এত নিম্নমুখী কেন তা ভাবার সময় এসেছে। সরকার ১৭টি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। দেশের অর্থনৈতিক চাকা ঘোড়ানোসহ দেশকে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দাঁড়াতে হলে বিজ্ঞান পাঠ এখন অপরিহার্য। মাত্র ১৮ ভাগ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী বিক্রমপুরে কাম্য নয়। এ হার আরো বাড়াতে হবে।

লৌহজংয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, লৌহজংয়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর হার কমেছে। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়াতেই এই অলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

লৌহজং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অবারিত বাংলার সহ-সভাপতি অলক কুমার মিত্র এবং স্বাগত বক্তব্য দেন বি এম শোয়েব।



সাতদিনের সেরা