kalerkantho

শনিবার । ২ জুলাই ২০২২ । ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ । ২ জিলহজ ১৪৪৩

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

৩ বেলা খেতেই ‘পকেট ফাঁকা’ শিক্ষার্থীদের

কুবি প্রতিনিধি   

২৫ মে, ২০২২ ২১:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩ বেলা খেতেই ‘পকেট ফাঁকা’ শিক্ষার্থীদের

দেশজুড়ে বেড়েছে দ্রব্যমূল্যের দাম। তার সঙ্গে মিল রেখে খাবারের দাম বাড়িয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের খাবারের দোকানগুলো। কিন্তু বাড়েনি খাবারের মান। তাই বাড়তি দাম দিয়ে খাবার খেলেও মানসম্মত খাবার পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

 

এদিকে হলের ডাইনিংয়ে খাবারের মান আরো খারাপ। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের চড়া দামে বাইরের দোকানে খাবার খেতে হচ্ছে। তাদের দাবি, হল প্রশাসন দায়িত্ব নিয়ে ডাইনিং চালালে শিক্ষার্থীদের বাইরে খেতে হবে না। এই খাতে প্রশাসনের ভর্তুকি দিতে হবে। এতে খাবারের দাম কমে মান বাড়বে। খরচ এবং ভোগান্তি কমবে শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থাকা খাবারের দোকানগুলোতে তরকারিভেদে পাঁচ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পাঁচ টাকার পরোটা ১০ টাকা, ৪০ টাকার মুরগির পিস এখন ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন দোকানি। ১৫ টাকার ডিম ভাজি বেড়ে হয়েছে ২০ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কোনো ডাইনিং চালু নেই। প্রতিটি হলে কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে ডাইনিং চালান। এতে মাঝে মাঝেই নোটিশ ছাড়া বন্ধ হয়ে যায় খাবার। দুর্ভোগে পড়তে হয় আবাসিক শিক্ষার্থীদের।  

এ ব্যাপারে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, 'হলের ডাইনিংগুলো যদি প্রশাসন না চালায় তাহলে হল আর মেসের পার্থক্য কোথায়? যেসব শিক্ষার্থী এসব ডাইনিং চালায় তাদেরও একটা বড় সময় নষ্ট হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে ডাইনিংগুলো চললে পুরো মাসেই খাওয়া যেত হলের ডাইনিংয়ে। '

কেন্দ্রীয়ভাবে ডাইনিং চালানোর ব্যাপারে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মিজানুর রহমান বলেন, 'নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতেও ভর্তুকির ব্যবস্থা নেই। তবে শিক্ষার্থীদের নিজেদের টাকায় ডাইনিংয়ে যে মিল চলে তার খোঁজখবর এবং তদারকি হল প্রশাসন করে থাকে। উপাচার্য চিন্তা-ভাবনা করছেন আগামী জুনের বাজেটের পরে কোনোভাবে সামান্য করে হলেও ভর্তুকি দেওয়া যায় কি না। '

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, 'প্রক্টরিয়াল বডি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিয়ে স্থানীয় হোটেল মালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসব। দাম বৃদ্ধির সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এ ছাড়া হলের ডাইনিংয়ের বিষয়ে হল প্রভোস্টদের সঙ্গে উপাচার্যের মিটিং হয়েছে। সবগুলো হলে খাবারের কোয়ালিটি মেইনটেইন করে মিল চালু করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। '

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, 'কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই ভর্তুকি দেয় না। আমরা ভর্তুকি ভাগ করে দিই। ভর্তুকি দুইভাবে দেওয়া যায়। একটি ক্যাশের মাধ্যমে। অন্যটি গ্যাস, বিদ্যুৎ, বাবুর্চি এবং কর্মচারীসহ অন্যান্য খরচ বহন করে। এসব খরচ আমরা হলেও দিচ্ছি, ক্যাফেটেরিয়ায়ও দিচ্ছি। এভাবে কিন্তু প্রশাসন ভর্তুকি দিচ্ছে। তবে সরাসরি খাদ্য ভর্তুকি দিতে পারি না। আমরা ইউজিসির কাছে খাদ্য ভর্তুকি চাইতে পারি, দেবে কি দেবে না তাদের ব্যাপার। '



সাতদিনের সেরা