kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

প্রতিটি পাটগাছ একেকটি ডলার : পাটমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৪ মে, ২০২২ ২১:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিটি পাটগাছ একেকটি ডলার : পাটমন্ত্রী

আবারও পাটের সুদিন ফিরে আসছে উল্লেখ করে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক বলেছেন, কৃষক যখন একেকটি পাটগাছ রোপণ করে, সেগুলো শুধু একেকটি পাটগাছ নয়, সেগুলো একেকটি ডলার। পাট এখন আমাদের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য।

পাটমন্ত্রী বলেন, ‘সারা পৃথিবী এখন পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা হয়েছে বিভিন্ন দেশে।

বিজ্ঞাপন

আমাদের দেশেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরও চুরিচামারি অনেকে ব্যবহার করছে।   এখন আমরা পাটের তন্তু দিয়ে ব্যাগ, কার্পেট বানাচ্ছি। পাটের পণ্য রপ্তানি করছি। করোনার সময় দুই বছর আমাদের গ্রোথ ছিল ২০ শতাংশ, অর্থাৎ তখনও আমরা ২০ শতাংশ পাটপণ্য রপ্তানি করেছি। তখন কিন্তু গার্মেন্ট একেবারে বন্ধ ছিল। এর মধ্যেও আমরা ২০ শতাংশ পাটপণ্য রপ্তানি করেছি। এখন পুরোদমে কারখানাগুলোতে কার্যক্রম চলছে। সুতরাং পাটের সুদিন ফিরছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া বেসরকারি খাতে বরাদ্দ দেওয়া কেএফডি জুট মিল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, ‘পাট থেকে সূতা তৈরি হচ্ছে। সেটা আমরা রপ্তানি করছি। পাট খড়ি থেকে চারকোল উৎপাদন করে সেটা চীনে রপ্তানি করছি। পাটের তন্তু এবং পাট খড়ি দুটোই আমরা রপ্তানি করছি। এভাবে পাটখাত এগিয়ে যাবে। পাকিস্তান আমলে পাট ছিল প্রধান আয়ের উৎস। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর পাটখাতে আবারও একটা জাগরণ তৈরি হয়েছে। ’

মন্ত্রী বলেন, ১৫টি পাটকল বেসরকারি খাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। টেন্ডার করা হয়েছে। আগামীকাল (বুধবার) জমা দেওয়ার শেষদিন। ১৮টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫৩টি প্রস্তাবনা পাওয়া গেছে। প্রস্তাবনা যাচাইবাছাই করে আমরা এই ১৫টি মিলও প্রাইভেটে দিয়ে দেব। প্রাইভেটে সেগুলো ভালো চলবে। এখানে আমাদের কোনো দায় থাকবে না। সরকার ব্যবসা করে না। সরকার ব্যবসা রক্ষা করে, পলিসি নির্ধারণ করে।

বন্ধ ঘোষিত পাটকলের শ্রমিকদের পাওনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করেছি। আইডি কার্ড, মামলাজনিত সমস্যার কারণে কিছু শ্রমিক টাকা পাননি। মামলা নিরসন হলে টাকা পেয়ে যাবেন। ’

এ সময় জুটমিলের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ইউনিটেক্স গ্রুপের চিফ ফাইন্যান্স অফিসার মোহাম্মদ আরিফ সভায় বলেন, কেএফডি জুটমিলে দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ছিল দুই থেকে পাঁচ টন। সেটাকে আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর দৈনিক ১০ টনে নিয়ে গেছি। চীন, ভিয়েতনাম, তিউনিসিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশে ২০০ টনের বেশি পাট থেকে তৈরি সূতা রপ্তানি করেছি। আরও প্রায় ৬০০ টন পাটপণ্য রপ্তানির কার্যাদেশ আমরা পেয়েছি। এই পাটকলে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত আমাদের আছে। সাড়ে তিন হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান এখানে হবে।

কর্ণফুলী জুট মিল, ফোরাত কার্পেট কারখানাসহ তিনটি কারখানা নিয়ে থাকা কেএফডি জুটমিল ২০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে বেসরকারি ইউনিটেক্স গ্রুপকে। কারখানার নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘ইউনিটেক্স জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি ইউনিটেক্সকে কারখানাটি হস্থান্তন করা হয়। সংস্কার শেষে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি।

পাটপণ্য রপ্তানি বাড়ছে উল্লেখ করে করে সভায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রউফ বলেন, পৃথিবীর ১৩৫টি দেশে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের মার্কেট আছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, ইউনিটেক্স গ্রুপের কর্মকর্তা সাকিব আহমেদ সিদ্দিকী মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন।



সাতদিনের সেরা