kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে আমতলী-তালতলীর ৪৩ কমিউনিটি ক্লিনিক

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা)   

২৪ মে, ২০২২ ১৯:৫২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে আমতলী-তালতলীর ৪৩ কমিউনিটি ক্লিনিক

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার ৪৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ৪৩টির ভবন এখন বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। ভবন ধসসহ অধিকাংশ ভবনের দরজা-জানালা খুলে গেছে, ছাদে ফাটল ধরেছে, পলেস্তারা খসে পড়েছে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। এ অবস্থায় রোগীদের সঠিকভাবে সেবা দিতে পারছেন না সিএইচসিপিরা।

বিজ্ঞাপন

ফলে ভেস্তে যেতে বসেছে মানুষের দোরগোড়ায় সরকারের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর লক্ষ্য।

দুই উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৯ সালে প্রতি ওয়ার্ডে ১টি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে। এতে আমতলী ও তালতলী উপজেলায় মোট ৪৪ টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপিত হয়। এর মধ্যে ২০২১ সালে আমতলীতে ব্যক্তিগত অনুদানে আরো দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করলে সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৬টিতে। পরে ২০০১-২০০৮ সাল পর্যন্ত এসব ভবনে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় ভবনগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবার ক্লিনিকগুলো চালু করে। সে সময় ভবনগুলো ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে ক্লিনিকের কার্যক্রম চালু হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানি বাজারের কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটি ২০২০ সালে দেয়াল এবং বিমসহ ধসে পড়ে। ফলে তখন থেকেই এই ভবনটি আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য  সেবা অব্যাহত রাখতে নিরুপায় হয়ে সিএইচসিপিরা খেকুয়ানি বাজারের একটি ক্লাব ঘরে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম তালুকদার জানান, ২ বছর আগে খেকুয়ানি কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনটি ধসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা ঠিক রাখতে আমরা খেকুয়ানি বাজারের একটি ক্লাব ঘরে সিএইচসিপিকে বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

সিএইচসিপি আফরোজা আক্তার জানান, সংস্কারের অভাবে ক্লিনিকের ভবন ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে স্কুলের বারান্দায় বসে রোগী দেখি। এতে নানা বিড়ম্বনা পোহাতে হয়।

একই অবস্থা জয়ালভাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের। ভবনটির ছাদে ফাটল দেখা দেওয়ায় বর্ষার সময় পানিতে তলিয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে বৃষ্টি আসলে মাথায় ছাতা ধরে রোগীদের সেবা দিতে হয়।

সিএইচসিপি সুজন প্যাদা জানান, প্রায় ৩ বছর ধরে কমিউনিটি কিলনিকের বেহাল দশা। বর্ষার সময় রোগী দেখতে গিয়ে ছাদ চুয়ে পানি পড়ায় ভিজে যাই।

এভাবে আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গেড়াবুনিয়া, সোনাখালী, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের চরকগাছিয়া, ভায়লাবুনিয়া, তারিকাটা, হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া হাট, পশ্চিম চিলা, টেপুরা, চাওড়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া, চন্দ্রা, কাউনিয়া, আমতলী সদর ইউনিয়নের কল্যানপুর, মানিকঝুরি, চলাভাঙ্গা, গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোজখালী, কুকুয়া ইউনিয়নের চরখালী। তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের কাজির খাল, ছোটবগী ইউনিয়নের সরদারিয়া, শারিকখালী ইউনিয়নের কচুপাত্রাসহ আমতলী ও তালতলী উপজেলার ৪৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ৪৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাকিলা আক্তার মুঠোফোনে বলেন, সংস্কারবিহীন কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনগুলোর তালিকা করে বরগুনা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ বলেন, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ৪৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যে সকল ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সেগুলো নতুন করে নির্মাণ করা হবে। বাকিগুলো সংস্কার করা হবে।

বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ফজলুল হক মুঠোফোনে বলেন, আমতলী এবং তালতলী উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। এগুলো সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে।



সাতদিনের সেরা