kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

কুয়াকাটা সৈকতে মত্যু

ডলফিন নয়, প্রাণীটি ‘পিগমি স্পার্ম হোয়েল’

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল   

২৪ মে, ২০২২ ১৫:৪৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ডলফিন নয়, প্রাণীটি ‘পিগমি স্পার্ম হোয়েল’

গতকাল সোমবার কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসে মৃত্যু হয় ‘পিগমি স্পার্ম হোয়েল’ প্রজাতির তিমিটির।

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে এসে মৃত প্রাণীটি ডলফিন নয় বলে জানিয়েছেন ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ-২ প্রকল্পের পটুয়াখালী জেলার সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি। মৃত প্রাণীটি বিশেষ প্রজাতির সামুদ্রিক তিমি। এ প্রজাতির তিমির বসতি মূলত গভীর সমুদ্রে। এর নাম ‘পিগমি স্পার্ম হোয়েল’ এবং বৈজ্ঞানিক নাম কোগিয়া ব্রেভিসেপস।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাতে তিমিটির ময়নাতদন্ত করে পেটে দুটি বাচ্চা পাওয়া যায়। রাতেই তিমিটি বন বিভাগের সহীপুর কার্যালয়ের অভ্যন্তরে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। এদিকে ময়নাতদন্তে পাওয়া নমুনা বণ্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশেষ প্রজাতির তিমি এর আগে বাংলাদেশের জলসীমায় ধরা পড়ার নজির নেই। মূলত গভীর সমুদ্রে বিশেষত আটলান্টিক, প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরে এই প্রজাতির তিমি বাস করে।

তারা আরো বলছেন, বিশ্বব্যাপী এ তিমি বেশি পরিচিত নয়। তাই এদের সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য নেই। এই প্রজাতির তিমি দেশের জলসীমায় এর আগে দেখা যায়নি। তাই এটি কিভাবে এখানে এলো তা নিয়ে অনুসন্ধান চালানো উচিত বলে বিশেষজ্ঞরা মত দয়েছেন।

ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ-২ প্রকল্পের পটুয়াখালী জেলার সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, কুয়াকাটায় উদ্ধার হওয়া প্রাণী‌টি প্রাথমিকভাবে ডলফিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে পরে জানা গেছে এটি বিশেষ প্রজাতির তিমি। 'পিগমি স্পার্ম হোয়েল'-এর গোত্রের ওই তি‌মি‌টির দৈহিক গঠন একটু ভিন্ন। তি‌মি‌টির মাথা বর্গাকার। এর পেছনের দিকে ত্রিভুজাকারের পাখনা আছে। সরু, সূক্ষ্ম দাঁত রয়েছে শুধু নিচের চোয়ালে।

সাগরিকা স্মৃতি আরো বলেন, তি‌মি‌টির ওপরের পৃষ্ঠ বরাবর হালকা ধূসর, পৃষ্ঠের নিচের অং‌শ হালকা সাদা। সামগ্রিকভাবে এই তিমি হাঙরের মতো দেখতে। শুধু তা-ই নয়, এর মাথার পাশে একটি ফুলকার মতো আছে। যেহেতু এই তিমি সচরাচর দেখা যায় না, তাই তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণীটি শনাক্তকরণে ভুল হয়েছিল।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লেম্বুরচরসংলগ্ন আন্ধারমানিক নদের মোহনায় সোমবার তিমিটি ভেসে আসার দুই ঘণ্টা পর মারা যায়। এর দৈর্ঘ্য সাত ফুট এবং প্রস্থ দুই ফুটের মতো। উদ্ধারের সময় তিমির শরীরের নিচের অংশ থেকে রক্ত ঝরছিল। ধারণা করা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে ট্রলিং জালে অথবা বোটের পাখার আঘাতে তিমিটি আহত হয়।



সাতদিনের সেরা