kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

রেলস্টেশনে তরুণী হেনস্তা : প্রধান আসামি তিন দিনের রিমান্ডে

নরসিংদী প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০২২ ১৯:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রেলস্টেশনে তরুণী হেনস্তা : প্রধান আসামি তিন দিনের রিমান্ডে

রেলস্টেশনে তরুণী হেনস্তা মামলার প্রধান আসামি ইসমাইল মিয়া

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে তরুণী হেনস্তার ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মামলার হওয়ার পর ইসমাইল মিয়া (৩৮) নামের এক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে নরসিংদীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ সিদ্দিকীর আদালত তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ইসমাইল মিয়া মামলার প্রধান আসামি। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও ভৈরব রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক হারুনুজ্জামান রুমেল এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাত ১১টায় নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক ইমায়েদুল জাহেদী বাদী হয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ১০/৩০ এবং ১৮৬০ সালের পেনাল কোড ১৪৩/৩২৩/৫০৬ ধারায় মামলাটি করা হয়। মামলার এজাহারে এক নারীসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো এক নারী ও ১০ পুরুষকে আসামি করা হয়।

আসামিরা হলেন নরসিংদী সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের বুদিয়ামারা এলাকার মৃত বাদল মিয়ার ছেলে মো. ইসমাইল ও নরসিংদী শহরের উপজেলা মোড় এলাকার ফয়েজ আহমেদের স্ত্রী শিলা আক্তার। ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ ও মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওতে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর মামলায় তাঁদের আসামি করা হয়।

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে আসেন ওই তরুণী ও দুই তরুণ। সকাল পৌনে ৬টা পর্যন্ত স্টেশনটির ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে তাঁরা ঢাকাগামী ঢাকা মেইল ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় স্টেশনে মধ্যবয়সী এক নারী ওই তরুণীকে জিজ্ঞেস করেন, 'এটা কী পোশাক পরেছ তুমি?' তরুণীও পাল্টা প্রশ্ন করেন, 'আপনার তাতে কী সমস্যা হচ্ছে?' এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এর মধ্যে সেই বিতর্কে যোগ দেয় স্টেশনে অবস্থানরত অন্য কয়েকজন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেদিনের একটি ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওই তরুণীকে ঘিরে রেখেছে একদল ব্যক্তি। এর মধ্যেই এক নারী উত্তেজিত অবস্থায় তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন। একপর্যায়ে ওই তরুণী সেখান থেকে চলে যেতে উদ্যত হলে ওই নারী দৌড়ে তাঁকে ধরে ফেলেন। এ সময় অশ্লীল গালাগাল করতে করতে তাঁর পোশাক ধরে টান দেন ওই নারী। কোনো রকমে নিজেকে সামলে দৌড়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে চলে যান তরুণী। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা দুই তরুণকেও মারধর করতে দেখা যায় ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন ব্যক্তিকে। পরে তাঁরাও দৌড়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে চলে যান। পরে ভুক্তভোগী তরুণী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ রেলস্টেশনে এসে তাঁদের ঢাকার ট্রেনে উঠিয়ে দেয়।

ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। হেনস্তাকারীদের শাস্তির দাবি জানায় তারা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত শুক্রবার রাত ৯টায় নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকা থেকে মো. ইসমাইলকে আটক করে পুলিশ। তাঁকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন শনিবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে তোলা হয়। আদালত তাঁকে জেলহাজতে পাঠান। পাশাপাশি আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই ঘটনায় তদন্ত করে মামলা করার নির্দেশ দেন। পরে ওই রাতেই ভৈরব রেলওয়ে থানায় মামলা করেন নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইমায়েদুল জাহেদী। আজ সোমবার দুপুরে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে নরসিংদীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ সিদ্দিকী আসামি ইসমাইলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এসআই হারুনুজ্জামান রুমেল বলেন, 'আমি আদালতে মো. ইসমাইলের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করি। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড কার্যক্রম আজ থেকে শুরু হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। '



সাতদিনের সেরা