kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন গিয়াস!

নরসিংদী প্রতিনিধি   

২২ মে, ২০২২ ২২:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন গিয়াস!

নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় এক নারী ও তাঁর দুই সন্তানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গৃহকর্তাকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গৃহকর্তা গিয়াস উদ্দিন শেখ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

আজ সন্ধ্যায় পিবিআইয়ের জেলা পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, 'আটকের পর গিয়াস উদ্দিন শেখ জিজ্ঞাসাবাদে মৌখিকভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আমরা এখন তাঁকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও ব্যাটসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করছি। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এর বিস্তারিত জানানো হবে। '

পিবিআই বলছে, আটকের পর গিয়াস উদ্দিন শেখ তাঁদের কাছে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন। গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, গতকাল রাতে তিনি গোপনে বাড়িতে আসেন। পরে স্ত্রী রাহিমা বেগমের কক্ষে ঢুকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁকে পেটান। এরপর মেঝেতে ফেলে ছুরিকাঘাত করেন তিনি। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর পাশের ঘরে গিয়ে ঘুমন্ত দুই সন্তানদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ওই ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন। পরে দুই ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে রেখে তিনি চলে যান।

পিবিআই জানায়, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড, সে বিষয়ে নিজেদের মতো করে তদন্ত করছিল ডিবি, র‌্যাব, সিআইডি, পিবিআই ও পুলিশ কর্মকর্তারা। গিয়াস উদ্দিন শেখও তাদের তদন্তে সহযোগিতা করছিলেন। কিন্তু তাঁকে খুবই নির্বিকার লাগছিল। স্বাভাবিক ছিলেন তিনি। প্রথমে তাঁকে সন্দেহ হয়নি। তিনি পিবিআইকে জানান, তিনি ঘটনার সময় গাজীপুরে ছিলেন। পরে তদন্তের জন্য তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর ট্র্যাক করে পিবিআই জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন। এরপরই সন্দেহ থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আটকের পর জেরার মুখে তিনি পিবিআইয়ের কাছে মৌখিকভাবে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন গিয়াস।

পিবিআই নরসিংদীর পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, 'হত্যাকাণ্ডের সময় গাজীপুরে ছিলেন জানালেও আমরা তাঁর মোবাইল ট্র্যাক করে জানতে পারি তিনি ওই সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন। এ ছাড়া একজন নারীর সঙ্গে তাঁর মুঠোফোনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার বিষয়টিও আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এই দুই কারণে আমরা তাঁকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আমাদের কাছে মৌখিকভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এরপরই তাঁকে আটক করা হয়। '



সাতদিনের সেরা