kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

বাবার নিথর দেহের দিকে অপলক তাকিয়ে ১২ বছরের গহন

মারুফ হোসেন, মানিকগঞ্জ   

২২ মে, ২০২২ ১৯:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাবার নিথর দেহের দিকে অপলক তাকিয়ে ১২ বছরের গহন

তিন দিন অপেক্ষার পর অবশেষে খুঁজে পেল বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে তার বাবার নিথর দেহ। অপলকে মরদেহের দিকে তাকিয়ে নির্বাক সন্তানের নীরবতা বুঝিয়ে দিল, বাবা হারানো কত কষ্টের। বাবা যে তাকে আর আদর করবে না। ঘুরতেও নিয়ে যাবে না, তাকে আর আগলে রাখবে না তা তার অপলকে তাকানোই বলে দিচ্ছিল।

বিজ্ঞাপন

এমন এক নির্মম ঘটনা ঘটেছে গহন আশ হাবিব (১২) নামের এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর সঙ্গে। ঢাকার সাভার থেকে গত শুক্রবার বিকেলে স্ত্রী ও একমাত্র প্রতিবন্ধী ছেলে নিয়ে মানিকগঞ্জের শিবালয়ে যমুনা নদীর পারে ঘুরতে যান গার্মেন্ট কর্মকর্তা আহসান হাবিব (৪৫)। নদীতে জোয়ারের নতুন পানিতে গোসল করার লোভ সামলাতে পারেননি হাবিব। গোসল করার সময় পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল ও স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পায়নি।

অবশেষে আজ রবিবার ডুবে যাওয়া স্থানেই ভেসে ওঠে হাবিবের লাশ।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ এলাকায় যমুনা নদীতে গোসল করার সময় পানিতে ডুবে হাবিব নিখোঁজ হন। এর পর থেকেই নদীর পারে রাত-দিন অপেক্ষা করতে থাকে তাঁর পরিবার ও স্বজনরা। এ সময় নিহতের ২০ বছরের দাম্পত্য জীবনের একমাত্র অর্জন ১২ বছরের প্রতিবন্ধী ছেলেটি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে নদীর দিকে, বাবার সন্ধানে। আজ বাবার মরদেহ নদীতে ভেসে ওঠার পর মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

নিহতের স্ত্রী নাসরিন আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমার স্বামী, ছেলে ও আমাকে খুব ভালোবাসতেন। শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে সময় পেলে ঘুরতে বের হতেন। তিনি সাভারের আশুলিয়া নাসা গার্মেন্টের ওয়াশিং সেকশনের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অফিসের এক কলিগের ফেসবুকে যমুনা নদীর বেড়িবাঁধের অসাধারণ ছবি দেখে আমাদের ঘুরতে নিয়ে এসেছিলেন। নদীর পানি দেখে গোসলের লোভ সামলাতে পারেননি। দূর থেকে দেখলাম আমার স্বামী পানিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবে গেলেন। এখন আমার প্রতিবন্ধী ছেলেটাকে একা আমি কিভাবে সামাল দেব? বাবাকে ছাড়া কিভাবে ছেলেটা থাকবে?'

পাটুরিয়া নৌ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, গত তিন দিন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল, নৌ পুলিশ ও স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজি করে নিহতের সন্ধান পাচ্ছিল না। আজ ডুবে যাওয়া স্থানেই ভেসে ওঠে লাশটি। নিহতের স্বজনদের কাছে লাশটি হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি ইউডি মামলা প্রক্রিয়াধীন।



সাতদিনের সেরা