kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

শিক্ষকের বেতাঘাতে রক্তাক্ত, অভিযোগ নেয়নি পুলিশ

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২২ মে, ২০২২ ১৭:৫৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিক্ষকের বেতাঘাতে রক্তাক্ত, অভিযোগ নেয়নি পুলিশ

শিক্ষকের বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত জখম শিক্ষার্থী মো. মঈনুল হক

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শিক্ষকের বেতাঘাতে মো. মঈনুল হক নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। রবিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার গোমদণ্ডী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. সাইফ হোসেন। তিনি ওই বিদ্যালয়ের ভোকেশনালের খণ্ডকালীন শিক্ষক।

বিজ্ঞাপন

খবর পেয়ে বোয়ালখালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে দশম শ্রেণির ক্লাস নেওয়ার সময় শিক্ষার্থী মঈনুল সহপাঠীদের সঙ্গে হেসে ওঠে। বিষয়টি শিক্ষক সাইফের নজরে এলে তিনি মঈনুলকে ডেকে ক্লাসের মধ্যে প্রথমে কিল-ঘুষি মারেন। পরে বেত দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। শিক্ষকের বেতের আঘাতে মঈনুল গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সহপাঠীরা তাকে ধরে প্রধান শিক্ষককের কাছে নিলে তিনি বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে বাড়ি চলে যেতে বলেন এবং বিষয়টি দেখবেন বলেন। খবর পেয়ে মঈনুলের ভাই মো. মোমিনুল হক এসে পুলিশের উপপরিদর্শক সুমন কান্তির সহায়তায় আহত মঈনুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন।

সহপাঠীরা জানায়, এ বিদ্যালয়ে এটা নতুন ঘটনা না। আরো বেশ কয়েকবার বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার ভয়ে তারা মুখ খোলেনি। তারা এ ধরনের নির্মম ঘটনার বিচার দাবি করে।

আহত মঈনুল হকের অসুস্থ বাবা আবদুল বারেক বলেন, 'আমি স্ট্রোক করে দীর্ঘদিন বিছানায় পড়ে আছি। দারিদ্র্যেরে কশাঘাতে জর্জরিত। আমার ছেলে চোর না ডাকাত যে এভাবে মেরে রক্তাক্ত করল। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। '

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, লিখিত অভিযোগ দিলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে।

কিন্তু থানার শীর্ষ কর্তার এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আহত শিক্ষার্থীর ভাই মোমিনুল হক বলেন, 'মামলা করতে থানায় গেলে পুলিশ মামলা না করে মীমাংসা করতে বলে। রাজি না হওয়ায় আমার অসুস্থ বাবা ও আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে পুলিশ। '

গোমদণ্ডী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঈনুল আবেদিন নাজিম প্রতিবেদকের ফোন না তোলায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। আর অভিযুক্ত শিক্ষকের মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগ করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।



সাতদিনের সেরা