kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড কুষ্টিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২১ মে, ২০২২ ১৮:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ায় কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বহু গ্রাম। কোথাও কোথাও বৃষ্টির সঙ্গে ভারি বজ্রপাতও হয়েছে। উপড়ে পড়েছে হাজার হাজার গাছ। ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

বিজ্ঞাপন

আজ শনিবার ভোর ৫টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড় প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার ছয়টি উপজেলায় ঝড়ের তাণ্ডবে শত শত গাছপালা ভেঙে পড়ে। শত শত হেক্টর জমির আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের ফারাজীপাড়ায় শতবর্ষী একটি বটগাছ উপড়ে পড়ে বহু ক্ষতি হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলার আমবাগানের মালিক কামাল উদ্দিন বলেন, 'বাগানের সব আম ঝড়ে পড়ে গেছে। আর এক সপ্তাহ পর আম পাড়া শুরু হতো। কিন্তু ঝড়ের তাণ্ডবে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেল। '

মিরপুর উপজেলার মশান গ্রামের কৃষক কিরামত আলী বলেন, 'ফসলের ক্ষেতের বেশ ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের পর দেখা গেছে, জমিতে জমে থাকা পানির ওপর লুটিয়ে পড়েছে ধান। পেঁপে বাগানের খুব ক্ষতি হয়েছে। বেশির ভাগ পেঁপেগাছ উপড়ে গেছে। লাভ তো দূরের কথা, আসল টাকাও উঠবে না। '

কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কের মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বড় বড় গাছ পড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফীন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা চালান।

কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জানে আলম বলেন, কালবৈশাখীর কারণে সড়কের দু'পাশে শত শত গাছের ডালপালা ভেঙে পড়েছে। কিছু কিছু জায়গায় এলাকাবাসীর সহায়তায় আবার কোথাও কোথাও ফায়ার সার্ভিসের টিম গাছগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়।

মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফীন বলেন, 'এমন ক্ষয়ক্ষতি হওয়া কালবৈশাখী খুব কম দেখেছি। এর আগে একটা এলাকা বা কয়েকটা এলাকাকে কেন্দ্র করে হতো। এবার পুরো জেলাজুড়ে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। '

কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (টেকনিক্যাল) মো. মোকসেমুল হাকিম বলেন, 'কালবৈশাখীর তাণ্ডবে পুরো জেলা লণ্ডভণ্ড। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে এবং গাছের ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে অনেক স্থানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে। '

কুমারখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন আর রশিদ বলেন, 'শনিবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ৭ কেটিএফ ঝড় ও ২৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। '

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুশান্ত কুমার প্রমানিক বলেন, 'ঝড়ে আম, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিক ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি। তবে কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে কাজ করছে। '



সাতদিনের সেরা