kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

কক্সবাজারে এক দিনে দুই তরুণীসহ তিন পর্যটকের মৃত্যু, আটক ৪

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

২১ মে, ২০২২ ০০:৫০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কক্সবাজারে এক দিনে দুই তরুণীসহ তিন পর্যটকের মৃত্যু, আটক ৪

প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। অনৈতিক সম্পর্ক, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং অবৈধ সঙ্গ এ জন্য দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলে এ পর্যন্ত যত ঘটনায় পর্যটকের মৃত্যু ঘটেছে সব ঘটনার নেপথ্যে অনৈতিকতা জড়িত।

সর্বশেষ ইনানীর হোটেল রয়েল টিউলিপ, কলাতলির বিচ হলিডে ও হোটেল সী গালের তিনটি ঘটনাই একই রকম।

বিজ্ঞাপন

তিনটি হোটেলেই দুই তরুণী এবং এক ডিভোর্সি নারী অবস্থান করছিলেন পরপুরুষের সঙ্গে। এতে দুই তরুণী এবং এক পুরুষ পর্যটক অস্বাভাবিক মৃত্যুর শিকার হন।

সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে এক দিনেই দুই পর্যটক তরুণীসহ তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা। ইতিমধ্যে তিন পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় ২টি পরিকল্পিত হত্যার মামলা রুজু হয়েছে। মৃত্যুর শিকার দুই তরুণীসহ তিন পর্যটকই হোটেলে ছিলেন অবৈধ সঙ্গীর সঙ্গে।

গত ১৮ মে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাবণী আকতার (১৯) নামের এক তরুণীর মৃত্যু হয়। চার বন্ধুসহ ওই তরুণী ১১ মে কলাতলীর বিচ হলি ডে নামের একটি আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন। হোটেলে থাকা অবস্থায় ১৪ মে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, অতিরিক্ত মদ্যপানে লাবনী আকতার নামে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশ ওই তরুণীর সঙ্গে আসা চার বন্ধুর মধ্যে দুজনকে আটকের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর থেকে অন্য দুই বন্ধু পলাতক আছেন। তরুণীর আটক হওয়া দুই সঙ্গী হলেন- যথাক্রমে, যাত্রাবাড়ী এলাকার কামরুল আলম (২০) ও আরিফ রহমান নিলু (২১)।  

তরুণীর বাবা মনির হোসেন এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় চার বন্ধুর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার মেয়েকে কৌশলে কক্সবাজার এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

একই দিন বিকেলে কক্সবাজারের ইনানী সৈকতের তারকা মানের আবাসিক হোটেল রয়েল টিউলিপে আরেক তরুণী পর্যটকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বামী পরিচয় দেওয়া নাছির উদ্দিন (২৬) নামে এক যুবককে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

রয়েল টিউলিপের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বুধবার সকালে মারফুয়া খানম (২৩) ও নাছির উদ্দিন (২৬) নামে দুজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেল রয়েল টিউলিপে ওঠেন। দুপুরে খাবার শেষে নিজেদের কক্ষে অবস্থান নেন দুজন। এর কিছুক্ষণ পর তরুণীর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে উখিয়া থানায় তরুণীর ভাই ছৈয়দুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন থানার ওসি (তদন্ত) গাজি সালাউদ্দিন। তিনি মামলায় দাবি করেছেন, তার বোন অবিবাহিত ছিল। প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে তাকে কক্সবাজার এনে হত্যা করা হয়েছে।

অপরদিকে একই দিন দিবাগত মধ্যরাতে কক্সবাজার সাগরপাড়ের হোটেল সী গালে অবস্থান নেওয়া পর্যটকের মৃত্যু ঘটে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। মনিরুল ইসলাম (৪০) নামের ব্যক্তি ঊর্মি নামের এক নারীকে নিজ স্ত্রী পরিচয়ে উঠেছিলেন ওই হোটেলে। রাতে অসুস্থতা বোধ করায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা হয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সেলিম উদ্দিন জানান, মৃত্যুর পর মনিরুল ইসলামের প্রকৃত স্ত্রী ঢাকা থেকে কক্সবাজার এসে স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন। মনিরুল ইসলাম ছিলেন নরসিংদী জেলা কৃষি উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী প্রকৌশলী। তিনি ঊর্মি নামের এক ডিভোর্সি নারীকে নিয়ে এসেছিলেন কক্সবাজারে। ঊর্মি নামের ওই নারীকে আটকের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে ইউডি মামলা রুজু করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা