kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

চাঁদপুরে চা শ্রমিক গণহত্যা দিবস পালন

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২০ মে, ২০২২ ২৩:২৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চাঁদপুরে চা শ্রমিক গণহত্যা দিবস পালন

চাঁদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় চা শ্রমিক গণহত্যা দিবস পালন করেছেন বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো। এই উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকালে শহরের ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে স্টিমারঘাট এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

পরে গণহত্যার শিকার চা শ্রমিকদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।  

এসময় ১৯২১ সালের এই দিনে বৃহত্তর সিলেট থেকে পালিয়ে আসা চা শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা কমিটির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন দুলাল, ঐক্য ন্যাপের সহসভাপতি ইউসুফ খান, বাসদ (খালেকুজ্জামান)-এর সমন্বয়ক শাহজাহান তালুকদার, সাম্যাবাদী আন্দোলনের সমন্বয়ক আজিজুর রহমান, সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন মিয়াজি, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

এতে সভাপতিত্ব করেন, চা শ্রমিক গণহত্যা দিবস স্মরণ কমিটির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর।  

এতে বক্তারা বলেন, বিগত একশো একবছর পার হয়ে গেলেও আজও চা শ্রমিকদের বেতন ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত হয়নি। ফলে দারিদ্র্যসীমার নিচেই তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।  

এমন পরিস্থিতিতে মাথাপিছু চা শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি পাঁচ শ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও তার আশপাশের অঞ্চল থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর হাজার হাজার মানুষকে বৃহত্তর সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়। এই জন্য কলকাতা থেকে ট্রেনে করে গোয়ালন্দ পরে নৌপথে স্টিমার যোগে চাঁদপুর। সেখান থেকে আবারো ট্রেনে করে সিলেট নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের।  
কিন্তু ব্রিটিশ কম্পানি এবং গুর্খা সৈন্যদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এসব মানুষ সিলেট থেকে ট্রেন পথ ধরে চাঁদপুর হয়ে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করে।  

১৯২১ সালের এই দিনে এসব মানুষের ওপর চাঁদপুর স্টিমার ঘাটে ফের হামলা করে ব্রিটিশ কম্পানির দালাল এবং সৈন্যরা। সেখানে কয়েক হাজার চা শ্রমিক গণহত্যার শিকার হন।

ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাওয়া মজলুম মেহনতি এসব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে চাঁদপুরে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিবছর দিবসটি পালন করছেন।  



সাতদিনের সেরা