kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

ছেলেদের ভয়ে বাবা থানায়!

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২০ মে, ২০২২ ২০:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছেলেদের ভয়ে বাবা থানায়!

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া ইউনিয়নের মগুয়া গ্রামের শামছুল আলম ও দিদারুল আলম মাসুদ নামের দুই ছেলের হামলা, মামলা ও প্রাণনাশের হুমকিতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে প্রাণভয়ে নাঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন পিতা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক নুরুল হক। তার জের ধরে শুক্রবার সকালে ডা. নুরুল হকের ছোট ছেলে মনজুরুল আলমের নির্মাণাধীন বাড়ির মাটি এক্সকাভেটর দিয়ে কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। মাটি কাটতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা কয়েকজন সন্ত্রাসীসহ তাদের পিতা ও ভাইয়ের ওপর আক্রমণ করে। খবর পেয়ে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মগুয়া গ্রামের শামছুল আলম ও দিদারুল আলম মাসুদ বাবা ডা. নুরুল হকের জীবদ্দশায় সম্পত্তি লিখে নিতে দীর্ঘদিন যাবৎ চেষ্টা করে আসছে। এ ব্যাপারে রাজি না হওয়ায় পিতাকে বারবার আক্রমণ ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। এ ছাড়া, পিতার কাছ থেকে জমি লিখে নেওয়ার বিষয়ে একমত না হওয়ায় তাদের বড় ভাই ঢালুয়া ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার নুরুল আলম ও ছোট ভাই স্থানীয় আনন্দ বাজারের বিকাশ ব্যবসায়ী মনজুরুল আলমের উপর কয়েক দফা হামলা করে ও উল্টো মামলা দিয়ে বড় ভাই কাজী নুরুল আলমকে বাড়ি ছাড়া করে।

সর্বশেষ শুক্রবার সকালে অভিযুক্তরা কয়েকজন সন্ত্রাসীসহ তাঁদের ছোট ভাই মনজুরুল আলমের নির্মাণাধীন বাড়ির মাটি এক্সকাভেটর দিয়ে কেটে নেওয়ার চেষ্টা করে। মাটি কাটতে বাধা দিলে তাঁরা ভাই ও পিতার ওপর হামলা করে। এ সময় তাঁদের চিৎকারে গ্রামবাসী এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা। এ ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করলে নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক ইয়ামিন সুমন ও এমদাদুল হক সঙ্গীয় ফোর্স গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ছাড়া, ডা. নুরুল হকের অভিযোগে তাঁর ছোট ভাই একরামুল হককেও আসামি করেন।

অভিযুক্ত শামছুল আলম বলেন, আমাদের জমিসংক্রান্ত বিষয়ে কিছু বিরোধ আছে। এ ছাড়া আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সেসব মিথ্যা।

ভুক্তভোগী ডা. নুরুল হক বলেন, আমার ছেলে শামছুল আলম ও দিদারুল আলম মাসুদ আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি লিখে নিতে চেষ্টা করছে। আমি রাজি না হওয়ায় তারা কয়েকবার আমার ওপর হামলা করে। আমার ছেলে মনজুরুল আলম ও কাজী নুরুল আলমকে কয়েক দফা মারপিট ও জখম করে। এখন আমি নিজে, আমার ছেলে মনজুরুল আলম ও নুরুল আলম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, যেকোনো সময় তারা আমাদের মেরে ফেলতে পারে। আমি এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।

নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের উপপরিদর্শক ইয়ামিন সুমন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।



সাতদিনের সেরা