kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

হবিগঞ্জের মাধবপুর

যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন, গালে গরম খুন্তির ছেঁকা

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি    

১৯ মে, ২০২২ ১৭:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন, গালে গরম খুন্তির ছেঁকা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে দেড় লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী মৌসুমী আক্তারের (২১) বাম গালে গরম খুন্তির ছেঁকা দেওয়াসহ অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী সাইফুল ইসলামের (২৫) বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় গত রবিবার (১৫ মে) তাকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর আগে যৌতুকের টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মৌসুমী আক্তারকে মারধর করা হয়। নির্যাতনকালে তার স্বামীর সঙ্গে শাশুড়ি ও ননদও যোগ দেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।   

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন বছর আগে উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের মিজান মিয়ার মেয়ে মৌসুমী আক্তারের সঙ্গে ১১ নম্বর বাঘাসুরা ইউনিয়নের বাঘাসুরা গ্রামের আব্দুল নুরের ছেলে সাইফুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে স্বামীর সংসারে সুখেই কাটছিল মৌসুমীর দিনকাল। চাকরির সুবাদে সাইফুল একসময় স্ত্রী, মা ও বোনকে নিয়ে নোয়াপাড়া ভাড়া বাসায় ওঠেন। সাইফুল-মৌসুমী দম্পতির ঘরে রাব্বি নামে ১৮ মাস বয়সী একটি ছেলেসন্তানও রয়েছে।  

কয়েক মাস ধরে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ দেড় লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন মৌসুমীকে। গরিব পিতা এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় ওই দিন দুপুরে সাইফুল ক্ষিপ্ত হয়ে মৌসুমীকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে সাইফুল, তার বোন নাইমা খাতুন ও মা বেদেনা খাতুন মিলে মৌসুমীর হাত, পা, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। একসময় মৌসুমীর বাঁ গালে গরম খুন্তির ছেঁকা দেওয়া হয়। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে ওই দিনই মৌসুমীকে সন্তানসহ তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন সাইফুল।  

মৌসুমীর বাবা মিজান মিয়া মেয়ের করুণ অবস্থা দেখে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। গরম খুন্তির ছেঁকায় মৌসুমী গাল দগদগে হয়ে ফুলে গেছে। ব্যথায় নড়াচড়া করতে পারছেন না, যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। শরীরের অন্যান্য জায়গায়ও  আঘাতের ফলে কালচে দাগ হয়ে আছে।

মার্জিয়ার বাবা আবদুল মিজান মিয়া বলেন, 'বিয়ের পর থেকে আমার মেয়েকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছে জামাতা সাইফুল। আমার মেয়েকে গরম খুন্তির ছেঁকা দিয়েছে। আশপাশের লোকজন না গেলে ওরা আমার মেয়েকে মেরেই ফেলত। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। '

গুরুতর আহত মৌসুমী আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'বিয়ের পর আমাকে প্রায়ই যৌতুকের জন্য মারধর ও নির্যাতন করত। আমার গরিব বাবার পক্ষে যৌতুক দেওয়া সম্ভব ছিল না। ওই দিন আমার কাছে দেড় লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। আমি এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমাকে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ মিলে মারধর করে গালে গরম খুন্তির ছেঁকা দেন। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। '

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা