kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

নৌকার প্রার্থী খুনের আসামি

রফিকুল ইসলাম ও আজিম হোসেন, বরিশাল   

১৯ মে, ২০২২ ০৩:০৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নৌকার প্রার্থী খুনের আসামি

প্রতীকী ছবি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এক খুনের মামলার আসামি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা ও শেখ হাসিনার স্পিডবোটে হামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিও নৌকা পেয়েছেন। এটা ঘটেছে বরিশাল ও বরগুনায়।

খুনের মামলার আসামি

২০১৬ সালের ৭ জুলাই মেহেন্দীগঞ্জের পানবাড়িয়ার আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক সরদারকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এই মামলার প্রধান আসামি মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল মোল্লা। সম্প্রতি তাঁকে উলানিয়া ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ। ভোটে জিতে আত্মগোপনে থাকা জামাল প্রকাশ্য হন।

মামলার এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি জামালের ভাই আমিরুল ইসলাম বেলাল মোল্লা। তিনিও দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। আগামী ১৫ জুন গোবিন্দপুর ইউপি নির্বাচনে বেলালকে নৌকা প্রতীক দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। তিনি নৌকা প্রতীক পেয়ে প্রকাশ্যে মাঠে বেরিয়ে পড়েছেন।

ছাত্রশিবির নেতা

বরগুনার তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে গত শুক্রবার গণভবনে দলীয় মনোনয়ন পান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান তনু বলেন, ‘আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। তিনি ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারকালে ছোটবগী বাজার এলাকায় পায়রা নদীতে শেখ হাসিনার স্পিডবোটে হামলা করেছিলেন। ওই সময় আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার জাতীয় পার্টির প্রার্থী মতিউর রহমান তালুকদারের সমর্থক ছিলেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় পড়াশোনার সময় ছাত্রশিবিরের সূত্রাপুর থানার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের গুঞ্জন রয়েছে।

তবে আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্পিডবোটে হামলার সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। এ ছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেউ কেউ আমাকে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলছেন। এটা সত্য নয়। ’

বিএনপি পরিবারের সদস্য

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বিদ্যানন্দপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আব্দুল জব্বার খান। তিনি একসময় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতেন। তাঁর ভাই কালাম খান বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তাঁর মেয়ে জামাই তামিম মাহমুদ সেকুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। জব্বারের শ্যালক অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ মধু বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য।

এ ছাড়া এই উপজেলার ছয়টি ইউপির পাঁচটিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করা নেতাদের। আন্ধারমানিক ইউপিতে নৌকা পাওয়া মোহাম্মদ আলাউদ্দিন কবিরাজ ২০০৬ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, মেহেন্দীগঞ্জে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে জেলা পরিষদের প্রশাসক মইদুল ইসলামের ইচ্ছামতো। কারণ মেহেন্দিগঞ্জের ছয় ইউনিয়নে যাঁরা নৌকা পেয়েছেন, তাঁরা সবাই ২০০৬ সালে মইদুল ইসলামের সঙ্গে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলেন।

ধর্ষণ মামলার সহযোগী পেলেন নৌকা

এদিকে আমাদের সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা ইসরাইল হোসেন বাবু জানান, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান একটি ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। তিনি আসন্ন নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন।

সোনাতনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল হাসান মিয়া লিটন বলেন, ‘তাঁকে দলের মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য গত ৭ মে জেলা আওয়ামী লীগের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। ’

এ বিষয়ে লুৎফর রহমান বলেন, ‘ওই এলাকায় একটি মারামারি ঠেকাতে গিয়েছিলাম। এ কারণে একটি পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণকারীকে সহযোগিতার অভিযোগ করেছেন। ’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কে এম হোসেন আলী বলেন, ‘তাঁর নামে ধর্ষণ মামলা আছে, জানতাম না। ’



সাতদিনের সেরা