kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

জেলে ৪ হাজার, বরাদ্দ ৩৭৪ জনের!

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)   

১৮ মে, ২০২২ ১৬:৫৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জেলে ৪ হাজার, বরাদ্দ ৩৭৪ জনের!

বঙ্গোপসাগরে ২০ মে থেকে শুরু হচ্ছে মাছ ধরার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা। সামুদ্রিক মাছের প্রজননের প্রধান মৌসুম এটি। নিরাপদ প্রজনন ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত জারি থাকবে এই নিষেধাজ্ঞা।

বিজ্ঞাপন

এ কারণে টানা দুই মাসেরও বেশি সময় উপকূলের জেলেপল্লীতে থাকবে না কোনো প্রাণচঞ্চলতা। তবে, নিষিদ্ধ এই সময়ে সমুদ্রগামী বেকার জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিজন জেলের জন্য ৬৫ দিনে ৮৬ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।  

এদিকে, বাগেরহাটের শরণখোলায় জেলেদের চাল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জনপ্রতিধিরা। উপকূলীয় এই উপজেলার চারটি ইউনিয়নে সমুদ্রগামী জেলের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। কিন্তু এর মধ্যে চাল বরাদ্দ এসেছে মাত্র ৩৭৪ জন জেলের। চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য বরাদ্দ আসায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় চাল উত্তোলনে অনিহা প্রকাশ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। তারা দ্রুত বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ওই সভায়।

অপরদিকে, নিষেধাজ্ঞার খবরে হতাশায় পড়েছেন উপকূলের জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবী নেতারা। তাদের অভিযোগ, প্রজননের এই সময় বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এই সময়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকে না। তারা এই সুযোগে বাংলাদেশের সীমানায় ঢুকে অবাধে মাছ ধরে নিয়ে যায়। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভারতীয় শত শত ট্রলিং ট্রলারে ছেয়ে যায় বঙ্গোপসাগর।

বাংলাদেশ ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সহসভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন ও শরণখোলা উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, দুই দেশের জলসীমায় একই সময়ে অবরোধ দিলে অবৈধভাবে মাছ ধরার কোনো সুযোগ পেত না ভারতীয় জেলেরা। ভারত-বাংলাদেশ একই সময় অবরোধ দেওয়ার জন্য মৎস্য অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি আমরা। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। সেই সুযোগে ভিনদেশী জেলেরা আমাদের সমস্ত মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের দেশের জেলেরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সরকারের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের যে উদ্যোগ তাও ব্যাহত হচ্ছে।

এই মৎস্যজীবী নেতারা জানান, বাংলাদেশের জেলেরা সরকারের সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে পালন করে থাকে। ঠিক তারই বিপরীতে একই সময় ভারতের জেলেরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেপরোয়াভাবে মাছ ছেকে নিয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে দুই একটি ট্রলার আটক করা হলেও সারা বছরই এদেশের জলসীমায় ভারতীয় ট্রলিং ট্রলার বিচরণ করতে দেখা যায়। তাই দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ।

শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, তার ইউনিয়নে জেলে রয়েছে এক হাজার ৪৪০ জন। অথচ বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ১১০ জনের। এখন এ চাল তিনি কিভাবে বিতরণ করবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না।  

রায়েন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন মুক্তা জানান, তারও ১২০০ জেলের মধ্যে চাল এসেছে ১১০ জনের। এ ছাড়া খোন্তাকাটার চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন জানান, তার ৯০০ জেলের মধ্যে ১০৪ জনের এবং ধানসাগরের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম টিপু জানান, তার ৫৮০ জনের মধ্যে মাত্র ৫০ জন জেলের চাল এসেছে। এনিয়ে তারা এখন বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।

উপজেলায় জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, শরণখোলায় মোট জেলের সংখ্যা ৬৭৪৪ জন। এর মধ্যে সমুদ্রগামী জেলেই হচ্ছে প্রায় চার হাজার। ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধের জন্য প্রতি জেলে ৮৬ কেজি করে চাল পাবেন। সে হিসাবে মাত্র ৩৭৪ জন জেলের চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। দুই কিস্তিতে এই চাল বিতরণ করা হবে। তবে তুলনামূলক বরাদ্দ কম আসায় ইতোমধ্যে আরো তিন হাজার জেলের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে।
 
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম পাওয়া গেছে। তবে সব জেলেরা যাতে পায় সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় ভারতীয় জেলেদের মাছ ধারার বিষয়ে জানতে চাইলে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা) এক অপারেশন কমান্ডার (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, বিষয়টি আমাদের নলেজে রয়েছে। দুই-একটি ট্রলার হয়তো ঢুকতে পারে। সেগুলো অভিযান চালিয়ে ধরা হচ্ছে।

কেস্টগার্ডের ওই কর্মকর্তা জানান, ভারতীয় জেলেরা যাতে আমাদের সাীমানায় প্রবেশ করে মাছ ধরতে না পারে সেব্যাপারে আমাদের সতর্ক নজরদারি রয়েছে। তাছাড়া দুই দেশে একই সময়ে অবরোধ দেওয়ার বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।



সাতদিনের সেরা