kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

ভূরুঙ্গামারীতে মধ‍্য রাতের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড দুই শতাধিক বাড়ি

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৮ মে, ২০২২ ১৪:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভূরুঙ্গামারীতে মধ‍্য রাতের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড দুই শতাধিক বাড়ি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মধ্যে রাতের ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় দুই শতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে বলে জানিয়েছে ইউপি চেয়ারম‍্যান মো: মানিক উদ্দিন।

আজ মঙ্গলবার (১৭ মে) দিবাগত রাত সারে ৩টার দিকে উপজেলায় প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলমান ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়ে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। ঝড়ের তাণ্ডবে অনেকের ঘরের চাল দুমরে মুচরে গিয়েছে। এছাড়া ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রচন্ড বৃষ্টিতে কৃষকের উঠতি ফসল বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। তীব্র বাতাসে বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উপজেলাজুড়ে বিদ‍্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

সরেজমিনে উপজেলার দেওয়ানের খামার কামাত আঙ্গারিয়া, বাগভান্ডার, সোনাতুলী, পশ্চিম ছাট গোপালপুর, চর ভূরুঙ্গামারী, পাইকেরচড়া ও ইসলামপুর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, মধ্যে রাতের ঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন জাতের বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। ভেঙ্গে গেছে সুপারিগাছসহ বিভিন্ন গাছপালা। উড়ে গেছে টিনের চাল। ভেঙ্গে গেছে কাঁচা ঘরবাড়ি।

ঝড়ে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামের আব্দুল গাফফার এর বসত ঘরের ওপর বড় একটি কদম গাছ ভেঙ্গে পড়ে পুরো ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারি গ্রামের বাবুল হোসেন বাবলু জানান, তার বৃদ্ধ মায়ের থাকার ঘরের উপর একটি বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। অল্পের জন‍্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন তার মা।

সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রহিম ও শিউলি বেগম দম্পতি বলেন, একমাত্র থাকার টিনসেট ঘরটি ঝড়ে উড়ে গেছে। এখন সন্তানদেরকে নিয়ে খোলা আকাশের নীচে আমরা।

চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সুমন শিকদার বলেন, আমার এ বয়সেও এই রকম ঝড়-তুফান দেখি নাই। ঝড়ে আমার একটি ঘর দুমড়ে মুচড়ে গেছে। একই গ্রামের কৃষক বাবু মিয়া বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে ইরি-বোরো ধান আবাদ করেছিলাম। আড়াই বিঘা জমির ধান কেটেছি বাকি ধান গত রাতের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে।  

ওই ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক, আব্দুল সামাদ আবুল হোসেন, শাহ আলী, সৈয়দ আলী ও মরিয়ম বেগম মান্নানসহ আরো অনেকের ঘর-বাড়ির ব‍্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার অন্য ইউনিয়নগুলোতে ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

চরভূরুঙ্গামারী ইউপি চেয়ারম‍্যান মানিক উদ্দিন বলেন, আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে ভয়াবহ ঝড়ের তাণ্ডবে প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে আমি ইউএনও স‍্যারকে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুর আলম বলেন, ঝড়ের কারণে উপজেলায় কি পরিমাণ সম্পদের ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারণের কাজ চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষয়-ক্ষতি নির্ধারণের কাজ চলছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে।



সাতদিনের সেরা