kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

নাটোরে চাঁদা না দেওয়ায় ঠিকাদারকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

নাটোর প্রতিনিধি    

১৮ মে, ২০২২ ১১:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাটোরে চাঁদা না দেওয়ায় ঠিকাদারকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

নাটোরে চাঁদা না দেওয়ায় আহমেদুল হক সজল (৩৯) নামে এক ঠিকাদারকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে আহত করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের উত্তর চৌকিরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা আহত সজলকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঠিকাদার আহমেদুল হক সজল শহরের আলাইপুর এলাকার প্রয়াত সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আমিনুল হক গেদুর ছেলে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও ঠিকাদার সমিতি সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার অধীন রানী ভবানী রাজবাড়ি থেকে উত্তর চৌকিরপাড় এলাকার একটি রাস্তায় কার্পেটিংয়ের কাজ চলছিল। ওই কাজের ঠিকাদার আহমেদুল হক সজল। এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আজিজুর রহমান ওরফে জামাই আজিজ ও তার ছেলে আশিকুর রহমান ওই কাজ শুরুর পর থেকেই সজলের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।

মঙ্গলবারও তারা সজলের কাছে চাঁদা দাবি করেন। সজল চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা বাপ-বেটা দুজনে মিলে সজলের ওপর চড়াও হন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। সজলের চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে গিয়ে সজলকে উদ্ধার করেন। এ সময় এলাকাবাসী সন্ত্রাসী আজিজ ও তার ছেলেকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করলে পুলিশ তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে। তারা দুজনই পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় আজিজ চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাস্তার কাজ নিম্নমানের হওয়ায় তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। কোনো চাঁদা দাবি করিনি। সজলকে কারা মেরেছে জানি না।

ঠিকাদার সজলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জেলা ঠিকাদার সমিতির নেতারা। জেলা ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল রাজা সাংবাদিকদের বলেন, ঠিকাদার সজলের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। নইলে সব নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

এদিকে ঠিকাদার সজলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে পৌর মেয়র উমা চৌধুরী জলি সদর হাসপাতালে তাকে দেখতে যান এবং সজলের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ ঘটনার জন্য জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তরসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার না হলে পরবর্তী সময়ে পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

নাটোর সদর থানার ওসি নাছিম আহমেদ বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলসহ সদর হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। গণপিটুনিতে আহত দুজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা