kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

কক্সবাজারে আদালতে মামলা

রাজাকারপুত্র, জামায়াত-শিবির নিয়ে আ. লীগের কাউন্সিলর তালিকা

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১৮ মে, ২০২২ ০১:২২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজাকারপুত্র, জামায়াত-শিবির নিয়ে আ. লীগের কাউন্সিলর তালিকা

রাজাকারের সন্তান ও জামায়াত-শিবিরসহ বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে গঠিত আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের কাউন্সিলর তালিকা অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা চেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন কক্সবাজারের এক তৃণমুল আওয়ামী লীগ কর্মী। মামলার আরজিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এরকম ফেরবী কাউন্সিলারের তালিকা নিয়ে কাউন্সিল অধিবেশন করা হলে উখিয়া উপজেলার জালিয়া পালং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নাম ধরার কোনো লোকই থাকবে না।

কক্সবাজারের বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত, উখিয়ায় গতকাল মঙ্গলবার ‘ঘোষণামূলক মামলা’ (অপর-৬৬/২০২২)টি দায়ের করা হয়েছে। উখিয়া উপজেলার জালিয়া পালং ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য জাফর আলম বাদী হয়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক উখিয়া-টেকনাফ সংসদীয় আসনের জন্য গঠিত ৬ সদস্যের সাংগঠনিক টিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞাপন

 

মামলার বিবাদিরা হচ্ছেন- যথাক্রমে দলীয় সাংগঠনিক টিমের প্রধান জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক টিমের সদস্যরা যথাক্রমে ইউনুচ বাঙ্গালী, আদিল উদ্দিন চৌধুরী, আবদুর রহমান বদি (সাবেক এমপি), নাজনিন সরওয়ার কাবেরি ও বদরুল হাসান মিলকী।

মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন- ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একটি গণমানুষের রাজনৈতিক দল। এ দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগঠনের শীর্ষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক রীতি ও গণতান্ত্রিক চর্চা সাবলীলভাবে বিদ্যমান। ’ 

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ দলের উখিয়া-টেকনাফ সংসদীয় আসনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তদারকির লক্ষ্যে ৬ সদস্যের সাংগঠনিক টিমটি গঠন করে। কিন্তু টিম প্রধানের নেতৃত্বে উক্ত সংসদীয় এলাকায় ‘আওয়ামী মোড়কে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন বিরোধীগোষ্ঠীতে রূপ নিয়েছে এবং গোপনে গোপনে আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি জামায়াত ও বিএনপিকে দলে অনুপ্রবেশ করার সুযোগ করে দিয়ে আওয়ামী লীগ ধ্বংসের অপরাজনীতি ও ষড়যন্ত্র করছেন। ’ 

খোদ সাংগঠনিক টিম প্রধান শাহ আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগ বিরোধিতার নানা অভিযোগ মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়েছে, মামলার এক নম্বর বিবাদী অর্থাৎ সাংগঠনিক টিম প্রধান শাহ আলম চৌধুরী হচ্ছেন- রোহিঙ্গা পুরিক্কা বাহিনীর প্রধান মৃত আবুল কাশেম প্রকাশ কাশেম রাজার ছেলে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ঘাপটে মেরে থাকা একজন জঘন্য আওয়ামী বিদ্বেষী লোক।

মামলার বাদী জাফর আলম জানান, তালিকাভুক্ত রাজাকার ছিদ্দিক আহমদের ছেলে জসিম উদ্দিন তার ভাই বেলাল উদ্দিন, নুরুল হকের ছেলে জামায়াত নেতা সাবেক মেম্বার আবুল হাশেম, ছাত্রদল নেতা আলমগীর রেজা, যুবদল নেতা সুজাউদ্দিন, হাবিবুর রহমানসহ রাজাকারের সন্তান ও জামায়াত-শিবিরসহ ভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের সংখ্যাধিক্যতা নিয়ে গঠিত আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের কাউন্সিলর তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, গঠিত সাংগঠনিক টিমের সদস্যরা উখিয়া-টেকনাফের দলীয় তৃণমূলের কোনো নেতা-কর্মীর সাংগঠনিক মতামতকে তোয়াক্কা না করে দলের ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলো গঠন করা হচ্ছে। কমিটি গঠনের জন্য ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলার তালিকা থেকে শুরু করে গঠিত কমিটিগুলোতে পর্যন্ত রাজাকারপুত্র, জামায়াত-শিবির ও বিএনপি-যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মী ঢুকানো হচ্ছে। এসব নিয়ে বাদি স্থানীয় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দলীয় নেতাদের কাছেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি উখিয়ার জালিয়া পালং এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তালিকা ও গঠিত কমিটি অবৈধ ঘোষণাসহ ইউনিয়ন কমিটির কাউন্সিল অধিবেশন স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছেন।

অপরদিকে উখিয়া-টেকনাফের সাংগঠনিক টিমের প্রধান শাহ আলম চৌধুরী জানিয়েছেন-‘ মামলার সমস্ত বিবরণই মিথ্যা ও বানোয়াট। ওয়ার্ড কমিটির কাউন্সিলর তালিকা করার দায়িত্ব স্থানীয় তৃণমূল কমিটির সদস্যদের। আমরা কেবল দলীয় কমিটি গঠনের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করে আসছি। অন্য দলের কর্মীদের দলে নেওয়ার কথাও সঠিক নয়। ’ সাংগঠনিক কমিটির অন্যতম সদস্য ইউনুচ বাঙ্গালী বলেন- ‘কমিটিতে রাজাকারের সন্তান ও জামায়াত-শিবির কর্মীদের নিয়ে হয়তোবা কেউ প্রতিবাদ করেননি। ’ 

এদিকে মামলার নিয়োজিত আইনজীবী মোহাম্মদ আবু হেনা চৌধুরী জানিয়েছেন-‘ মামলাটি আদালতে দায়ের করা হয়েছে। মামলায় জবাব দেওয়ার জন্য আদালত নোটিশ প্রদান করবেন বিবাদীদের। বিবাদীরা যদি হাজির না হন তাহলে মামলাটি এক তরফা সূত্রে নিষ্পত্তি হবে। ’



সাতদিনের সেরা