kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

ধুনটে ফের কালবৈশাখীর হানা

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৭ মে, ২০২২ ১৫:৫১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ধুনটে ফের কালবৈশাখীর হানা

মাত্র ৭২ ঘণ্টা পর ফের ঝড়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের একই এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী কমপক্ষে ১৫টি গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি ও গাছপালা লণ্ডভণ্ড হয়েছে। এ সময় মৌসুমি ফল আম, লিচু, কলা, ভুট্টাক্ষেত, ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

মঙ্গলবার ভোর ৫টা ও সোমবার মধ্যরাতে দফায় দফায় উপজেলার মথুরাপুর ও চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, ১৩ মে (শুক্রবার) মধ্যরাতে ঝড়ে মথুরাপুর ইউনিয়নের শ্যামগাতী, পিরহাটি, খাদুলী ও ভাদাইলহাটাসহ কমপক্ষে ১০টি গ্রামের ৫ শাতাধিক পরিবারের বাড়িঘর লণ্ডভণ্ড হয়। মাত্র ৩ মিনিটের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের বাড়িঘর মেরামত কাজ শেষ না হতেই ফের একই এলাকায় ঝড়ে ক্ষতি হয়েছে। এ যেন মারার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে।   

স্থানীয় সূত্রে সেমাবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় ঝড়ে বাড়িঘর লণ্ডভণ্ড হয়েছে। প্রবল বেগে বয়ে চলা বাতাসে উড়ে গেছে ঘরের চালা। নষ্ট হয়েছে ঘরে রক্ষিত খাদ্যসামগ্রী। লণ্ডভণ্ড হয়েছে ঘরের আসবাবপত্র। ঝড়ে চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের শ্যামবাড়ি গ্রামের একটি মাদরাসার শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কালবৈশাখী ঝড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালনের তার ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিদ্যুৎসংযোগ। ভেঙে গেছে বিদ্যুতের অসংখ্য মিটার। রাস্তায় গাছ পড়ে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বসবাস করছে খোলা আকাশের নিচে। বোরো ধানের ক্ষতি হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষকরা।

উপজেলার শ্যামগাতী গ্রামের বেলাল হোসেন বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ করে পশ্চিম দিক থেকে শোঁ শোঁ শব্দ করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি উড়িয়ে নিয়ে যায়। গাছপালা ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও গাছপালা ভেঙে গেছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের তালিকা তৈরি করে সহযোগিতা করা হবে।



সাতদিনের সেরা