kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

১৮ বছর পর সম্মেলন ঘিরে চট্টগ্রাম যুবলীগে চাঙ্গাভাব

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম    

১৭ মে, ২০২২ ০৩:০২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



১৮ বছর পর সম্মেলন ঘিরে চট্টগ্রাম যুবলীগে চাঙ্গাভাব

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে নানা ইস্যুতে বিরোধ-বিভক্তি রয়েছে। সহযোগী সংগঠন মহানগর যুবলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যেও রয়েছে প্রকাশ্য বিভক্তি। ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন মহানগর ছাত্রলীগও দ্বিধাবিভক্ত। মহানগর শ্রমিক লীগ পাঁচ ভাগে বিভক্ত।

বিজ্ঞাপন

এই সংগঠনের বিবদমান পাঁচ পক্ষ সর্বশেষ গত ১ মে মহানগর শ্রমিক লীগের ব্যানারে আলাদাভাবে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে দিবসটি পালন করে। এ ছাড়া ক্ষমতাসীন দলের অন্য সংগঠনগুলোতেও নেতাদের মধ্যে দলাদলি, অনৈক্য প্রকট।

এরই মধ্যে সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী দুই মাসের মধ্যে তৃণমূলের সম্মেলন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ সম্মেলনের দিকে এগিয়ে গেলেও ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের সম্মেলনের খবর নেই। প্রায় ২৮ বছর ধরে শ্রমিক লীগের সম্মেলন হচ্ছে না। অন্যদিকে ছাত্রলীগের এক বছরের কমিটি এরই মধ্যে আট বছর পার করেছে। এ দুটি সংগঠনের সম্মেলন হবে, নাকি কেন্দ্র থেকে আবার নতুন কমিটি করে দেওয়া হবে, তা-ও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।

নগর আওয়ামী লীগের তৃণমূল (ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটি) এবং নগর যুবলীগের আগামী ৩০ মের সম্মেলন ঘিরে কয়েক দিন ধরে চাঙ্গাভাব দেখা যাচ্ছে। সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকা ও চট্টগ্রামে একাধিক বৈঠক করছেন। যুবলীগের নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্র ও স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক গত রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, এর মধ্যে নগরের ১২৯ ইউনিটের মধ্যে ৯৩টির সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে অবশিষ্ট ইউনিটের সম্মেলন শুরু হবে। এরপর ওয়ার্ড ও থানা কমিটির সম্মেলন শুরু করা হবে।

একই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ বলেন, ‘তৃণমূলে সম্মেলন ও নতুন কমিটি হচ্ছে। এসব সম্মেলন শেষ করে নগর কমিটির সম্মেলন হবে। নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ কেন্দ্র যখনই দেবে, আশা রাখি আমরা সে অনুযায়ী করতে পারব। ’

গত ১০ মে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, যেসব ইউনিটের সম্মেলন হয়নি সেগুলো ২৫ মের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এ ছাড়া ১৫টি থানায় নিজ নিজ ওয়ার্ড ও ইউনিটের সাংগঠনিক ভিত্তি দাঁড় করানোর জন্য যেসব থানা সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেগুলোর আহ্বায়ক ও সদস্যদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড ও ইউনিটের সঙ্গে বসে ২৫ মের মধ্যে মহানগর দপ্তরে প্রতিবেদন আকারে পেশ করতে হবে।

আগামী ৩০ মে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। ১৮ বছর আগে মহানগর যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল। এই সম্মেলন সামনে রেখে কেন্দ্র থেকে গত মাসে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে বায়োডাটা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরপর গত শনিবার থেকে কমিটির অন্যান্য পদেও প্রত্যাশীদের কাছ থেকে বায়োডাটা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসন্ন সম্মেলন নিয়ে নগরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হলেও বিভিন্ন কারণে নিয়মিত সম্মেলন করা যায় না। ’ নগর যুবলীগে বিভক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা আলাদা কর্মসূচি করছে তাদের যুবলীগ বলা যাবে না। তাদের কেন্দ্রের কোনো অনুমোদন নেই। ’

মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি বখতিয়ার উদ্দিন খানের কাছে সংগঠনে এখন পাঁচটি পক্ষ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, যাঁদের কোনো পদ-পদবি নেই, তাঁরাও সংগঠনের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি করছেন। সংগঠনে আগে এত গ্রুপিং ছিল না, এখন বেড়ে গেছে। কেন্দ্র থেকে সম্মেলনের কোনো উদ্যোগ নেই।

আলাদাভাবে মহানগর শ্রমিক লীগের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসা একটি অংশের নেতৃত্ব দেওয়া আবুল হোসেন আবু বলেন, সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে মহানগর শ্রমিক লীগের সম্মেলন হয়েছিল। নিয়মিত সম্মেলন না হওয়ায় নেতা উঠে আসছে না। এ কারণে দলাদলি বেড়ে গেছে। যাঁরা মাঠে-ময়দানে সাংগঠনিক কার্যক্রম করছেন তাঁদের মূল্যায়ন হচ্ছে না। এতে হতাশা আছে কর্মীদের মধ্যে।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগও দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বের সঙ্গে কমিটির সবাই নেই। সহসভাপতি মিথুন মল্লিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদ রাসেলসহ বেশ কয়েকজন সহসভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে নগর ছাত্রলীগের ব্যানারে আলাদা কর্মসূচি পালন করছেন। তাঁদের এই দূরত্ব ও দলাদলির প্রভাব পড়েছে থানা, ওয়ার্ডসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিগুলোতে।

জানতে চাইলে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহম্মেদ ইমু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নগর সম্মেলনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে কেন্দ্র। আমরা সম্মেলনের জন্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু এখনো সিদ্ধান্ত পায়নি। সম্মেলনের জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। মূল সংগঠনকে ডিঙিয়ে কেউ যদি আলাদাভাবে অনুষ্ঠান করে তা কেন্দ্রীয় কমিটি দেখছে। ’

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যের কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল। এর আগে ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই কেন্দ্র থেকে ১০১ সদস্যের মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্র থেকে এই আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হয়েছিল তিন মাস। এই কমিটির আগে ২০০৩ সালে নগর যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল। ওই সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত কমিটি ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই কেন্দ্র থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

একইভাবে কেন্দ্র থেকে ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৪ জনের আংশিক কমিটি করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০১৪ সালের ১১ জুলাই ওই ২৪ জনসহ ২৯১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ নগর ছাত্রলীগের কমিটির অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।



সাতদিনের সেরা