kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

দু'ভাইকে বেঁধে নিষ্ঠুর নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

১৬ মে, ২০২২ ২০:২৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দু'ভাইকে বেঁধে নিষ্ঠুর নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর বাজার। গত শুক্রবার ছিল হাটবার। সংগ্রহ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একদল লোক দুই ব্যক্তিকে বেঁধে বেদম মারধর করছে। শুধু হাতেই নয়, রড দিয়েও পেটানো হচ্ছে তাদের।

বিজ্ঞাপন

এ সময় বারবার বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু তাতেও মন গলেনি প্রতিপক্ষের। তারপর দুই দিন পেরিয়ে গেছে।

এরই মধ্যে গতকাল রবিবার রাতে নির্যাতনের সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আর তা নজরে পড়ে পুলিশের। এতে তৎপর হয়ে ওঠে ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সোহেল মাহমুদ জানান, সোমবার সকালে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জড়িত অন্যরা গাঢাকা দিয়েছেন। তারা হলেন মোজাম্মেল হোসেন (৬০) ও মোহাম্মদ হোসেন (৩৮)। তাদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মূলত জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্যে দুই ভাইকে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করার এমন অভিযোগ ওঠে।

নির্যাতনের শিকার দুই ভাই ফয়েজ মৃধা এবং শেখ ফরিদ অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাদের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ সময় বাঁচার জন্য আকুতি জানিয়েও নিস্তার পাননি তারা। তারা আরো জানান, বাড়ির সামনে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সেই জমির মালিকানার দাবির একপর্যায়ে মোজাম্মেল হোসেন বাবুল এবং তার সঙ্গীরা আমাদের ওপর হামলা করে।

প্রতিপক্ষের এক স্বজন বৃদ্ধ মনসুর আহমেদ জানান, প্রতিনিয়মত গালাগাল আর উসকানিমূলক নানা ধরনের আচরণ এবং পারিবারিক কবরস্থানের পবিত্রতা নষ্ট করার কারণে অধৈর্য হয়ে শেষ পর্যন্ত এ দুই ভাইকে শায়েস্তা করতে তাদের মারধর করা হয়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সোহেল ও জুয়েলও একই কথা জানান। তারা জানান, ফয়েজ মৃধা ও শেখ ফরিদ মূলত মামলাবাজ। সামান্য জমির মালিকানা দাবি করেন। প্রায়ই গালাগাল এবং উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন এ দুই ভাই। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসীও অতিষ্ঠ।

অন্যদিকে ঘটনার শিকার ফয়েজ মৃধা বাদী হয়ে ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন।

এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে সোমবার দুপুরে চাঁদপুরের আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়।



সাতদিনের সেরা