kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৩

দল বেঁধে ধর্ষণ করা হলো কিশোরীকে, জিম্মি ছিল বোন ও তার ছেলে

খুলনা অফিস   

১৬ মে, ২০২২ ১৬:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দল বেঁধে ধর্ষণ করা হলো কিশোরীকে, জিম্মি ছিল বোন ও তার ছেলে

খুলনায় বড় বোন ও বোনের ২২ মাস বয়সী শিশুকে জিম্মি করে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত দেড়টার দিকে বটিয়াঘাটা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গি ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে রবিবার রাতে ওই কিশোরী অসুস্থ হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে বটিয়াঘাটা থানায় মামলা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

র‌্যাব-৬ ও পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের মূলহোতা মুজাহিদ শেখ (২৪), মো. আজিজুল মোড়ল ওরফে মিশরিয়া (২৫) ও নাঈম মোড়ল (২৪) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত মুজাহিদ ফুলবাড়ী গ্রমের মৃত মোহাম্মাদ শেখ, আজিজুল মো. আজনবী মোড়ল ও নাঈম হুমায়ুন মোড়লের ছেলে।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা জানান, শনিবার বিকেলে তিনি তাঁর বোনের বাড়ি ডুমুরিয়া যান। তাঁর স্বামী চিকিৎসার জন্য বাগেরহাটে গিয়েছিলেন। এ সময় তাঁর কিশোরী কন্যা, বোনের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে ও মেয়ের ২২ মাস বয়সী শিশু বাড়িতে ছিল। মধ্যরাতে সাত যুবক তাঁদের বাড়িতে যায়। তারা কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা চালায়। এ সময় কিশোরীর বোন নিজ ইজ্জতের বিনিময়ে বোনকে রক্ষার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। শিশুটির গলায় ধারালো ছুরি ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটিকে পানিতে চুবিয়ে রাখে। শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কিশোরীর মা বলেন, 'রাতে (শনিবার) আমার মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়। সকালে ফোন চালু করলে মেয়েরা ঘটনাটি খুলে বলে। আমি দ্রুত বাড়ি যাই। ওদের ভয়ে প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানাইনি। কিন্তু মেয়ের অবস্থা খারাপ হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। '

বটিয়াঘাটা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, 'ঘটনাটি জানার পর থেকেই আমরা ভিকটিম ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। কিশোরীকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। '

বটিয়াঘাটা থানার ওসি মো, শাহজালাল বলেন, ১৪ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া অন্যজনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মূলহোতা মুজাহিদ, আজিজুল ও নাঈমকে র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলেও দ্রুততম সময়ে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

এদিকে র‌্যাব জানায়, বটিয়াঘাটা থানাধীন ফুলবাড়ী গ্রামে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মুজাহিদ শেখ ও মো. আজিজুল মোড়ল ওরফে মিশরিয়াকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার ভোররাতে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।

র‌্যাব আরো জানায়, ভিকটিম অসুস্থ হয়ে পড়লে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি ভিকটিমের খালাতো বোনকেও ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের চিৎকারে তারা পালিয়ে যায়।



সাতদিনের সেরা