kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ১৭ মে ২০২২ । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩  

দুদক ও মানবাধিকার কমিশনে শ্বেতপত্র হস্তান্তর

১১৬ ধর্মব্যবসায়ীর অপরাধের তথ্য দিল গণকমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মে, ২০২২ ২৩:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১১৬ ধর্মব্যবসায়ীর অপরাধের তথ্য দিল গণকমিশন

‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ এবং জাতীয় সংসদের আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক ককাসের যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন প্রকাশিত শ্বেতপত্রের কপি দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে এক হাজার মাদরাসা ও ১১৬ জন ধর্মব্যবসায়ী/ ওয়াজকারী সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে।  

আজ বুধবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনে এই শ্বেতপত্রের কপি হস্তান্তর করেন গণকমিশনের চেয়ারপার্সন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সদস্য সচিব ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, কমিশনের সচিবালয়ের সমন্বয়কারী কাজী মুকুল, সদস্য শহীদসন্তান আসিফ মুনীর তন্ময় ও ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী।

এই গণকমিশন সম্প্রতি ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ২০০০ দিন’ শীর্ষক শ্বেতপত্র প্রকাশ করে, যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ২১০০-এর বেশি।

বিজ্ঞাপন

গত ১২ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে এই শ্বেতপত্রের মোড়ক উন্মোচন করেন।

আজ দুপুর ১২টায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে শ্বেতপত্র তুলে দেওয়ার পর বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার শ্বেতপত্রের কপি দুদক চেয়ারম্যানের কাছে দিয়েছি। তিনি শ্বেতপত্র ভালো করে পড়ে দুদকের আইনের মধ্যে যতটুকু করা সম্ভব ততটুকু করবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। দুদকের আইনের বাইরে কিছু থেকে থাকলে সেটা করার জন্য বিভিন্ন সংস্থা যেমন সিআইডি কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তা পাঠিয়ে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবেন বলে জানিয়েছেন। ’ 

তিনি বলেন, ‘মৌলবাদী সাম্প্রদায়িকতা কর্মকাণ্ডের ছবিসহ বিবরণ, ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি এবং এসব ঘটনার স্থায়ী সমাধানের জন্য শ্বেতপত্রে আমরা বেশ কিছু সুপারিশ করেছি। আমরা তদন্তে ধর্ম ব্যবসায়ী, হেফাজত, জামায়াত মানি লন্ডারিং করছে, এ ধরনের তথ্য পেয়েছি। এর মধ্যে বিশেষ করে যারা এসব ঘটনায় দায়ী তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করেছি। আশা করছি, মৌলবাদী সাম্প্রদায়িকতার শিকড় উপড়ে ফেলতে এই শ্বেতপত্র অপরাধ দমন সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিশেষ করে ‘দুদক’কে সহযোগিতা করবে। ’

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘গণকমিশনের এই শ্বেতপত্রে ১০০০ মাদরাসা ও ১১৬ জন ধর্মব্যবসায়ী/ওয়াজকারীর ওপর তদন্ত করে তথ্য-উপাত্ত যুক্ত করেছি। আশা করছি, আমাদের তদন্তের ওপর ভিত্তি করে দুদক তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পারবে। ’

কাজী মুকুল বলেন, ‘মৌলবাদী সাম্প্রদায়িকতা অপশক্তি সারা দেশে নাশকতার পাশাপাশি তাদের অর্থের উৎস এবং এর ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষকে ভিন্নপথে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে- এ তথ্যগুলোই আমরা শ্বেতপত্রে উল্লেখ করেছি। গণমাধ্যম সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি হেফাজতে ইসলামের ৫০ জন নেতার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কে দুদক তদন্ত করছে। আমাদের শ্বেতপত্রে তাদের জঙ্গি সম্পৃক্ততা, সন্ত্রাস, হত্যা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি আর্থিক দুর্নীতি ও অরাজকতার তথ্য রয়েছে। আমাদের শ্বেতপত্র দুদকের তদন্তে সহায়ক হবে বলে আমরা মনে করি। আশা করব দুদক দ্রুত জামায়াত-হেফাজতের নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য ওয়াজ ব্যবসায়ীদের আর্থিক দুর্নীতির বিবরণ জাতির সামনে তুলে ধরবে।  

এরপর গণকমিশনের প্রতিনিধিদল দুপুর ১টায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদের কাছে শ্বেতপত্র তুলে দেন।  

সেখানে গণকমিশনের সদস্যরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই শ্বেতপত্র স্বাধীনতাবিরোধী ও ধর্মান্ধদের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অনুসন্ধান এবং এর উদ্দেশ্য অনুধাবনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সহায়তা করবে।



সাতদিনের সেরা