kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

চিকিৎসাধীন ভিক্ষুককে নির্যাতন-গ্রেপ্তার, ৬ পুলিশ সদস্যকে শাস্তি

তদন্ত কমিটি গঠন

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি   

১১ মে, ২০২২ ১৭:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চিকিৎসাধীন ভিক্ষুককে নির্যাতন-গ্রেপ্তার, ৬ পুলিশ সদস্যকে শাস্তি

জামালপুরের সরিষাবাড়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ভিক্ষুকসহ চারজনকে নির্যাতনের পর গ্রেপ্তারের ঘটনায় অভিযুক্ত চার পুলিশ উপপরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত ও দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাকির হোসেন সুমনকে ঘটনা তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জামালপুর পুলিশ সুপার নাছির উদ্দীন আহমেদ। আজ বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাকির হোসেন সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন পুলিশের উপপরিদর্শক আলতাফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, ওয়াজেদ আলী ও মুনতাজ।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়াও কনস্টেবল মোজাম্মেল হক ও সাথী আক্তারকে প্রত্যাহার করে জামালপুর পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাকির হোসেন সুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'মঙ্গলবার হাসপাতালে এক ভিক্ষুক ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কয়েকজন পুলিশ যে আচরণ করেছেন তা অমানবিক। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম বুধবার থেকে শুরু করা হয়। ঘটনা তদন্ত করে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। '

তিনি আরো বলেন, তদন্তে যাদের নাম আসবে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তে সরিষাবাড়ী থানার ওসির বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সরিষাবাড়ী পৌরসভার বাউসি বাজার এলাকার মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে ভিক্ষুক আব্দুল জলিল ২০ শতক জমিতে বসতভিটা বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। প্রতিপক্ষ মুজিবুর রহমান সম্প্রতি ওই জমি তাদের দাবি করায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে মামলা হলে আদালত আব্দুল জলিলের পক্ষে রায় দেন। আদালতের আদেশ অমান্য করে সোমবার সকালে প্রতিপক্ষ মুজিবুর রহমান দলবল নিয়ে আব্দুল জলিলের পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রামদা, লোহার রড ও লাঠির আঘাতে আব্দুল জলিল (৬৪), তার স্ত্রী লাইলী বেগম (৫০), বড় ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (৩০), মেজো ছেলে ওয়ায়েজ করোনি (২৫), ছোট ছেলে হামদাদুল হককে (১৬) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবারের অন্য সদস্য জসিম মিয়াকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে ঘটনার পর মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে চিকিৎসাধীন চারজনসহ ১৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এজাহারভুক্ত চার আসামিকে আটক করে। হাসপাতালের শয্যা থেকে পুলিশ তাদের চ্যাং দোলা করে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাখানেক তাদের হাজতে রাখার পর বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

ভিক্ষুক আব্দুল জলিলের জামাতা চান মিয়া, মেয়ে জুলেখা বেগম ও ভাতিজা রানা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তারা মামলা করতে গেলেও পুলিশ তাদের মামলা নেয়নি। উল্টো আব্দুল জলিলকে থানায় আটকে রাখা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি হন। রাতে উল্টো অভিযুক্তরা মামলা করে। পরের দিন সকালে পুলিশ হাসপাতাল থেকে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে যায়।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর রকিবুল হক বলেন, মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে সোমবার রাতে আব্দুল জলিলসহ অন্যদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এরপর হাসপাতাল থেকে যথাযথ নিয়ম মেনে  আসামিদের আটক করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় টেনেহিঁচড়ে আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ায় তাদের আটক করা হয়েছে। না হলে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হতো।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, 'আহতদের চিকিৎসা চলাকালীনই পুলিশ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। চিকিৎসাধীন আসামিদের যেভাবে আটক করা হয়েছে তা অমানবিক। '

এ ব্যাপারের জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার নাছির উদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতাল থেকে ওইভাবে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ ঠিক করেনি। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় চার এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত ও দুই কনস্টেবলদের পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাকির হোসেন সুমনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে বিভাগীয় সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা