kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

চাঁদা না পেয়ে বসতঘর গুঁড়িয়ে দিলেন মেম্বার, অভিযোগ দেওয়ায় পিটিয়ে মারার হুমকি

আজিজুর রহমান রনি, মুরাদনগর (কুমিল্লা)   

৯ মে, ২০২২ ১২:২৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চাঁদা না পেয়ে বসতঘর গুঁড়িয়ে দিলেন মেম্বার, অভিযোগ দেওয়ায় পিটিয়ে মারার হুমকি

অভিযুক্ত কবির হোসেন দিদার।

জ্বালাও-পোড়াও, গাড়ী ভাংচুর ও বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে আসামি জামিনে বের করাসহ বিভিন্ন ঘটনায় পাঁচ মামলার আসামী কবির হোসেন দিদার (৪০)। ওয়ার্ড মেম্বারের নানা রকম অন্যায় কার্যক্রমে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা। অবৈধ ড্রেজার দিয়ে অন্যের জমি করছেন ভরাট করা ছাড়াও এলাকায় নতুন রাস্তা করার বাহানায় ১৭টি প্রবাসী পরিবার থেকে নিয়েছেন মোটা অংকের অর্থ। এমনকি দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন দুটি বসতঘর।

বিজ্ঞাপন

তার ড্রেজার দিয়ে খুড়া গর্তে পরে দুই শিশুর হাত ভেঙে যায়।  

গত বৃহস্পতিবার (৫ মে) নানান অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে ইউএনও এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ভুক্তভোগী। অভিযোগ দেওয়ায় আবুবক্কর সেলাফিকে পিটিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর বাধ্য হয়ে গত শুক্রবার (৬ মে) রাতে থানায় লিখিত দেন তিনি।  

অভিযুক্ত কবির হোসেন দিদার (৪০) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯নং দারোরা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার এবং পালাসুতা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। গত তিন মাসে পাঁচজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। বিএনপি’র শীর্ষ পদের কোনো নেতা না হলেও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তিনি। নানান অপকর্মের অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।  

ভুক্তভোগী মো. আবুবক্কর সেলাফী বলেন, ‘জ্বালাও-পোড়াও গাড়ী ভাংচুর ও বিচারকের স্বাক্ষর জালসহ কবির হোসেন দিদার পাঁচ মামলার আসামী। গত বৃহস্পতিবার সব মামলা নাম্বার উল্লেখ করে তার যাবতীয় খারাপ কাজের বর্ণনা দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ খবর পেয়ে কবির মেম্বার লোকজন নিয়ে আমাকে মারধর করে এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়।  

তিনি আরো জানান, গত শুক্রবার রাতে নিরূপায় হয়ে তাকে প্রধান অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত দেই। পালাসুতা গ্রামে শুধু আমি ভুক্তভোগী নই। আরো চারজন তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বিভিন্ন দপ্তরে। এলাকায় রাস্তা করার বাহানায় প্রবাসী পরিবার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছে সে। বাড়িতে পুরুষ লোক না থাকায় হেনস্থা হওয়ার ভয়ে প্রবাসী পরিবারগুলো মুখ বোঝে তার নিপীড়ন সহ্য করে যাচ্ছে। রাস্তা তৈরির অজুহাতে ১৭টি পরিবার থেকে কবির টাকা নিয়েছে। অথচ রাস্তা তৈরির জন্য তাকে কেউ বলেনি বা সরকারি কোনো বরাদ্দও আসেনি। তার একটি ড্রেজার মেশিন আছে। তা দিয়ে তিন ফসলি জমির মাটি কাটছে। মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত সে। ’ 

এমন দুষ্ট লোক এলাকায় কীভাবে মেম্বার হয়? এমন প্রশ্নে সালাফি বলেন, ‘এক গ্রাম থেকে ৩ জন ছিল আওয়ামীলীগ সমর্থিত। আর তার গ্রাম থেকে সে ছিল একা। গ্রামের ঐতিহ্য আর দলীয় লোকদের প্রতিযোগিতার মধ্যে সে পার পেয়ে যায়।

মোকবোল হোসেনের ছেলে মো. রুবেল বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার পর আমার পায়ে অপারেশন করেছি। স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকার ঘরটি মেম্বার সাহেব বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিয়েছেন। এখন আমি কৈ থাকি!’

সেকান্দর আলীর ছেলে আব্দুর রহিম বলেন, ‘শহরে আমি রিক্সা চালাই। বাড়িতে সম্বল বলতে একটি টিনের চালার ঘরই ছিল। টাকা না পেয়ে মেম্বার আমার ঘরটি ভেঙে দিয়েছে। বিচার চাওয়ার মতো সামর্থ্য নেই আমার। ’

এক প্রাবাসীর স্ত্রীর কাছে ৩০ হাজার টাকা চেয়ে না পেয়ে তার ফল বাগানের ২৫টি গাছ কেটে ফেলেছে মেম্বারের লোকজন। অন্য একজন প্রবাসীর স্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন মেম্বার কবির। ’

ঘটনাস্থলে গিয়ে আরো জানা যায়, রিপনের মেয়ে সাড়ে ৪ বছর বয়সের রিমু ও সোলাইমানের ৩ বছরের ছেলে ভেকু দিয়ে খুড়া গর্তে পরে হাত ভেঙ্গে ফেলেছে।

অভিযুক্ত মেম্বার কবির হোসেন দিদারের মুঠোফোনে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চলার পথে আমার বন্ধু যেমন আছে তেমনি শত্রুও আছে। একটা পক্ষ মিথ্যা ছড়াচ্ছে। দুজন লোকের ঘর ভাঙলেন কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তাদের ঘর খাস জমিতে পরেছে তাই ভেঙেছি। ’

এ বিষয়ে ১৯ নং দারোরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকার বলেন, ‘রাস্তার জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। মেম্বার কবিরের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ অনেক। তবে আমি নিরুপায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশের কাছে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কবির মেম্বারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে জানতে চেয়েছি এবং আমিও খতিয়ে দেখছি। অন্যায় কিছু পেলে ছাড় পাবে না। ’



সাতদিনের সেরা