kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

বাঁশের বেড়ায় আটকে গেল ৭০ পরিবারের চলাচল!

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২৪ এপ্রিল, ২০২২ ১০:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঁশের বেড়ায় আটকে গেল ৭০ পরিবারের চলাচল!

ঢাকার ধামরাইয়ে জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে রাস্তায় কাঁটা ও বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচলের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে রেখেছে একটি পরিবার। এতে ৭০টি পরিবারের লোকজনকে প্রায় আধা কিলোমিটার ঘুরে চলাফেরা করতে হচ্ছে। ভোগান্তিতে রয়েছে ৭০ পরিবারের প্রায় আড়াই শ সদস্য। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

বরং মামলায় আরো জটিল আকার ধারণ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের খাগাইল গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এটির সমাধান করতে পারবে।

জনপ্রতিনিধ, স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা গেছে, খাগাইল গ্রামের শওকত হোসেনের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই আবদুল আজিজের চার শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। খাগাইল মৌজায় তাদের তিন শরিকের ৫৭ শতাংশ জমির ওপর বংশ পরম্পরায় ঘরবাড়ি করে বসবাস করে আসছেন তারা। এর মধ্যে প্রত্যেকের অংশে ১৯ শতাংশ জমি থাকার কথা থাকলেও আজিজের অংশের চার শতাংশ জমি দখল করে রয়েছে শওকত হোসেন। এ চার শতাংশ জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার কথা বলাতে পারিবারিক রাস্তায় কাঁটা ও বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দিয়ে প্রায় শত পরিবারকে ভোগান্তিতে ফেলেন শওকত হোসেন। এদিকে আজিজও তাঁর চারশতাংশ জমি বুঝে নিতে শওকতের ঘরের সামনে খুঁটি গেড়েছেন। এ ঘটনায় আজিজসহ তাঁর বৃদ্ধ মা ও স্ত্রীকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন শওকত। এ মামলায় তাঁরা জামিনে আছেন। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে চলছে চরম উত্তেজনা। জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্থায়ী সমাধানের দাবি স্থানীয়দের। তা না হলে যেকোনো মুহূর্তে তাঁদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

শওকত হোসেন বলেন, আমরা উভয় পক্ষ পৈতৃকসূত্রে জমির মালিক। বসতবাড়ি ছেড়ে দিতে আমাকে হুমকি দিয়েছে। তাই মামলা করেছি। অপরদিকে আজিজ বলেন, আমার জমির দখল ছেড়ে দেওয়াতে রাস্তায় বেড়া ও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে যেকোনো মূল্যে আমি আমার জমি বুঝে নেবই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রতন মিয়া জানান, রাস্তায় বেড়া দেওয়ায় ৭০ পরিবারের প্রায় আড়াই শ সদস্য ভোগান্তিতে পড়েছে। তাদের কোথাও যেতে হলে প্রায় আধা কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। উভয় পক্ষ নিয়ে কয়েকবার সালিস-বৈঠক হয়েছে কিন্তু  কোনো কাজ হয়নি। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান বি এম মাসুদ রানা বলেন, শওকত হোসেন কোনোকিছ্ইু মানেন না। বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, মীমাংসার লক্ষে উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু শওকত হাজির হননি।



সাতদিনের সেরা