kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ১৭ মে ২০২২ । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩  

সরকারি খাতার ‘মৃত’ মনোয়ারা ঘুরে বেড়ান সবার সামনে!

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

২০ এপ্রিল, ২০২২ ১৮:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি খাতার ‘মৃত’ মনোয়ারা ঘুরে বেড়ান সবার সামনে!

নিজ বাড়িতে জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে মনোয়ারা বেগম।

এলাকাবাসী, আত্মীয়-স্বজন সবার কাছে আজও জীবিত মনোয়ারা বেগম। বয়সের ভারে নুয়ে পড়ায় লাঠি ভর দিয়ে পাড়ার সবার সামনে ঘুরে বেড়ান তিনি। সহযোগিতা করেন সংসারের কাজেও। সবার কাছে এই বৃদ্ধা জীবিত হলেও সরকারি খাতায় তিনি মৃত।

বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির ২ তারিখে তিনি মারা গেছেন―এমন তথ্য রয়েছে নির্বাচন অফিসে। সে হিসাবে পাঁচ বছর ধরে মৃত মনোয়ারা বেগম। সরকারি খাতায় তিনি মৃত হওয়ায় এ পর্যন্ত ভাতার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি তার।  

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী মনোয়ারা বেগমের বয়স এখন ৭৪ বছর। উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ওয়াজেদ মোড়লের স্ত্রী তিনি। ১৫ বছর আগে অসুস্থ হয়ে মারা যান ওয়াজেদ মোড়ল। সেই থেকে বড় ছেলে হাসান আলীর আশ্রয়ে থাকেন এই বৃদ্ধা।  

আজ বুধবার দুপুরে গোবিন্দপুরে তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরের পেছনে বসে সংসারের কাজ করছেন মনোয়ারা বেগম। এ সময় বাড়িতে সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে লাঠি ভর দিয়ে হেঁটে আসেন তিনি। মনোয়ারা বেগম বলেন, 'ছেলের কাছে থাকি। নিজের বেরামের ওষুধ কিনতিও ছেলের কাছে হাত পাতা লাগে। বিধবা হইছি ১৫ বছর আগে। এত বয়স হইছে, আমারে কেউ কিছু দেয় না। '

বৃদ্ধা বলেন, 'আমার মেয়ে রওশনারা বিধবা হয়েছে ২৫ বছর আগে। এখন পাটকলে কাজ করে। ওরেও এত দিন কিচ্ছু দেয়নি। আমার আর মেয়ের জন্য কতজনের কাছে হাঁটিছি। সবাই শুধু টাকা চায়। মেয়েটা অনেক টাকা খরচও করেছে। এবার ওর ভাতার বই হইছে। আমারটা হলো না। '

স্থানীয় শরিফুল ইসলাম বলেন, 'মনোয়ারা বেগম অনেক আগে ভাতা পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন। তার ভাতা আজও হলো না। আগের মহিলা মেম্বার রওশনারা এই বৃদ্ধার ভোটার কার্ড নিয়েছিলেন; কিন্তু কার্ড করে দেননি। পরে শুনেছি ভোটার আইডির নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করার সময় বৃদ্ধাকে মৃত দেখাচ্ছে। '

উপজেলা নির্বাচন অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। তখন এই বৃদ্ধাকে মৃত দেখানো হয়েছিল। স্থানীয় মনিরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি বৃদ্ধাকে শনাক্ত করে বলেন, 'মনোয়ারা বেগম সম্পর্কে আমার ভাবি হন। উনি ২০১৭ সালে মারা গেছেন। সে হিসাবে বৃদ্ধার মৃত্যু তারিখ দেখানো হয় ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। '

সূত্রটি বলছে, হালনাগাদ তথ্য নেওয়ার সময় তখনকার স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ গোলাম বৃদ্ধা মনোয়ারাকে মৃত শনাক্ত করে প্রত্যয়ন দিয়েছেন। তবে মোবাইল নম্বর না থাকায় এ বিষয়ে মেম্বার আব্দুল আজিজের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, মনোয়ারা বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে তিনি মৃত। ২০১৯ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় শিক্ষকরা এই বৃদ্ধাকে মৃত দেখিয়ে তথ্য দিয়েছেন।

আব্দুর রশিদ বলেন, 'এ পর্যন্ত উপজেলার এমন ১০২ জনের তথ্য এসেছে, যারা এখনো বেঁচে আছেন; কিন্তু ভোটার তালিকায় মৃত। তাদের সবার বিষয়টি যাচাইয়ের পর সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগমের বিষয়টি আমাকে কেউ জানাননি। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যেকোনো দিন আমার অফিসে এলে বৃদ্ধার বিষয়টি সংশোধন করে দেওয়া হবে। '

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন করে আনলে বৃদ্ধার জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।



সাতদিনের সেরা