kalerkantho

শনিবার । ২ জুলাই ২০২২ । ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ । ২ জিলহজ ১৪৪৩

ঈদের আগেই নতুন আরেক ঘাট হবে জাজিরায়

শরীয়তপুর প্রতিনিধি    

১৯ এপ্রিল, ২০২২ ১২:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈদের আগেই নতুন আরেক ঘাট হবে জাজিরায়

ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে জাজিরা-শিমুলিয়া নৌপথে জাজিরার সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাটে আরেকটি ফেরিঘাট নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)।  

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক গতকাল সোমবার সকালে সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান। আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে নতুন এ ঘাটটি চালু করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বিআইডাব্লিউটিএ। এ ছাড়া মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে রাতেও ফেরি চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

 

বিআইডাব্লিউটিএ ও বিআইডাব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথ দিয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যান ফেরিতে পারাপার হয়। ওই নৌপথে ফেরি চলতে গিয়ে গত বছরের ২০ জুলাই পদ্মা সেতুর একটি পিলারের সঙ্গে রো রো ফেরির ধাক্কা লাগে। বিভিন্ন সময় নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ফেরিগুলো পদ্মা সেতুর সঙ্গে কয়েক দফা ধাক্কা খায়। এমন পরিস্থিতিতে গত বছর ১৮ আগস্ট থেকে ওই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।  

তখন থেকে শরীয়তপুরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ চরম বিপাকে পড়ে। এরপর নদীর স্রোত কমে গেলে ওই নৌপথে দিনের বেলা স্বল্প পরিসরে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়।  জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাট এলাকায় গত বছরের ২৫ আগস্ট নতুন করে একটি ফেরিঘাট নির্মাণ করে বিআইডাব্লিউটিসি ও বিআইডাব্লিটিএ। নাব্যতা সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ওই পথে ফেরি চালু করা যায়নি। গত বছর ৮ ডিসেম্বর থেকে ওই নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে নৌপথ দুটিতে দিনে ৩টি এ টাইপের ফেরি, ২টি ডাম্প ফেরি ও একটি ছোট ফেরি চলাচল করছে। বিকাল ৫টার পর বাংলাবাজার ঘাট বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন সাত্তার মাদর-মঙ্গল মাঝির ঘাটে তিনটি ফেরি চলাচল করে। দিনে রাতে মিলে নৌ-পথ দুটিতে এক হাজার থেকে বারোশ যানবাহন পারাপার হচ্ছে।  

সামনে ঈদ হওয়ার কারণে ঘাট দুটিতে পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পারাপারের জন্য প্রতিদিন অন্তত দুই হাজার গাড়ি আসছে। যার কারণে চালকদের ফেরির সিরিয়াল পেতে ৮ হতে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ ছাড়া ঈদ সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাবে। গত বছর ঈদে যাত্রী পারাপারে অতিরিক্ত চাপের কারণে ফেরিতে কয়েকজন যাত্রীর মুত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। জাজিরার সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির লঞ্চঘাটটি ৪০০ মিটার পূর্ব দিকে সরিয়ে সেই স্থানে একটি ফেরিঘাট নির্মাণ করা হবে। বিআইডাব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক সোমবার ঘাটটি পরিদর্শনে আসেন। তখন ঘাটের ইজারাদার, পরিবহন ব্যবসায়ী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সাথে সভা করেন। সভা শেষে তিনি এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান।

জাজিরা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান সোহেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়ে যায়। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে যাতায়াত করেন। ফেরি ও নৌযানের স্বল্পতায় মানুষের দুর্ভোগ কমানোর জন্য নতুন একটি ঘাট নির্মাণ করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে সমন্বয় করে ঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর  শিমুলিয়া নৌ-পথের সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাটটিই স্থায়ী ফেরিঘাট হবে। পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার কারণে বাংলাবাজার ঘাটটি বন্ধ করে দেয়া হবে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ মোকাবেলা করার জন্য ওই ঘাট হতে রাতে কয়েকদিন ফেরি চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর বিকল্প জাজিরার ঘাটে আরেকটি ফেরিঘাট নির্মাণ করা হবে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে।  



সাতদিনের সেরা