kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ১৭ মে ২০২২ । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩  

টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে ফসল, লোকসানে চিন্তিত তিস্তাপারের কৃষকরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

১৩ এপ্রিল, ২০২২ ০৯:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে ফসল, লোকসানে চিন্তিত তিস্তাপারের কৃষকরা

টানা ভারি বৃষ্টিতে তিস্তার ঢলে চরে আবাদ করা সব ফসল এখন পানির নিচে। ডুবে যাওয়া ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন কৃষকরা। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তৈয়ব খাঁ চর থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে তিস্তার চর প্লাবিত হওয়ায় কয়েক দিনে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ, রসুন, বাদাম ও সবজির লোকসানে তিস্তাপারের কৃষকরা বেশ চিন্তিত। সেই সঙ্গে তাঁদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে ঋণের বোঝা। এ অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে কৃষি বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে ২৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ১৫-১৬ এপ্রিল পর্যন্ত শিলাবৃষ্টিসহ মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে স্থানীয় এই আবহাওয়া অফিস।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তিস্তার চরে শত শত কৃষক ধারদেনা করে পেঁয়াজ, রসুনসহ নানা ধরনের সবজির আবাদ করেছেন, কিন্তু ভারি বৃষ্টির কারণে ডুবে গেছে এসব ফসলের ক্ষেত। চৈত্র মাসে এমন বৃষ্টির ফলে নদীর পানি বেড়েছে অসময়ে। আর এতে কপাল পুড়েছে কৃষকদের। হাঁটুপানিতে নেমে পেঁয়াজ, রসুন, বাদাম, ধান তুলেছেন অনেক কৃষক।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তৈয়ব খাঁ গ্রামের বাসিন্দা কৃষক হক্কানী ব্যাপারী বলেন, ‘আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি চৈত্র মাসে এমন বন্যা হবে। ছয় একর জমিতে বাদাম, পেঁয়াজ, কুমড়া, কালিজিরা, ধনিয়া চাষ করেছি। এবারের বন্যায় সব শেষ। এর আগে কার্তিক মাসে আলু চাষ করেও বন্যায় ধ্বংস হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে সার, কীটনাশক, ওষুধ, বীজ ইত্যাদি খরচে প্রায় ১১ লাখ টাকা দেনা করেছি। এখন কিভাবে এই দেনা শোধ করব চিন্তায় ঘুম আসে না। ’

কৃষক কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘আমি মাস্টার্স পাস করে কোনো চাকরি খুঁজিনি। ইচ্ছা হলো কৃষক বাবার কাজে সহযোগিতা করে আত্মনির্ভরশীল হবো, কিন্তু সেই স্বপ্ন বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। ’

কৃষক ফখরুল ইসলাম জানান, চরের মধ্যে পেঁয়াজ পাঁচ একর এবং বোরো ধান চার একর জমিতে চাষ করেছেন তিনি প্রায় সাত লাখ টাকা ঋণ করে। হঠাৎ এমন বন্যায় তাঁর সব শেষ হয়ে গেছে বলে আফসোস করেন তিনি।

তাঁদের মতো বহু কৃষক এই প্রতিবেদকের কাছে এমন হতাশা প্রকাশ করেন।

মোকছেনা বেগম নামের এক কিষানি বলেন, ‘এই যে ওজার (রোজা) মধ্যে ছোয়া-পোয়া নিয়া সংসার কিভাবে চলবে? ওজার মধ্যে খাওয়ার সেই কষ্ট হয়া গেইছে। মানুষে তো আর ইন (ঋণ)-পাওনা ছাড়ব্যান নয়। মানুষক তো ইন-পাওনা শোধ করায় নাগবে। ’

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুর রশীদ জানান, জেলার চারটি উপজেলায় ২৭৩ হেক্টর বোরো ধান, পেঁয়াজ, তরমুজ, পাট, ভুট্টা, চীনাবাদাম, শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিপাত বেশি হলে ক্ষতিও বাড়বে। এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে। আউশ মৌসুমে সরকারের প্রণোদনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন। ’



সাতদিনের সেরা