kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

কেনা দামের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি ‘মধ্যবিত্তের বাজার’-এ

এমরান হাসান সোহেল, পটুয়াখালী    

৮ এপ্রিল, ২০২২ ১০:৫৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কেনা দামের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি ‘মধ্যবিত্তের বাজার’-এ

নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার মূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে ‘মধ্যবিত্তের বাজার’ নামে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বিক্রি করেন ‘পটুয়াখালীবাসী’ সংগঠনের সদস্যরা। গত বুধবার তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নাকাল নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন। তাদের দুশ্চিন্তা দূর করতে ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যের পসরা সাজিয়েছে ‘পটুয়াখালীবাসী’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সিয়ামের মাসে ‘মধ্যবিত্তের বাজার’ নামে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীদের তোলা চাঁদা এবং সমাজের বিত্তবানদের সহায়তায় রমজানজুড়ে পটুয়াখালীতে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ওই সংগঠনের প্রধান উদ্দেশ্য, রমজানে নিত্যপণ্যের চড়া দাম সাধারণ মানুষ যাতে অনুভব না করে, সে জন্য লোকসান গুনে রমজানে খোলা থাকবে ‘মধ্যবিত্তের বাজার’।

বিজ্ঞাপন

পাইকারি দোকান থেকে পণ্য কিনে ক্রয়কৃত দাম থেকে ১৫ থেকে ৫০ টাকা কমে পণ্য বিক্রি করা হয় ‘মধ্যবিত্তের বাজার’-এ।

যা কিছু বিক্রি হয়

বাজারে ৮৫ টাকার ছোলা মানবিক বাজারে বিক্রি হয় ৬০ টাকায়, ৬০ টাকার চিড়া ৪৫ টাকা, ৯০ টাকার চিনি ৬৫ টাকা, ১১০ টাকার মসুর ডাল মধ্যবিত্তের বাজারে পাওয়া যায় ৮০ টাকায়, ১২০ টাকার মোটা মুড়ি ৮০ টাকা, ১৬০ টাকার এক লিটার সয়াবিন তেল ১৫০ টাকা, দুই লিটার সয়াবিন তেল ৩১০ টাকা। ৩০ টাকা কেজির পিঁয়াজ মধ্যবিত্তের বাজারে বিক্রি হয় ২০ টাকায় এবং ৩৩ টাকার লবণ বিক্রি হয় ২৫ টাকায়। এ ছাড়া ঈদের আগে এসব পণ্যের পাশাপাশি থাকবে সেমাই, নুডলস ও গুঁড়া দুধ। আরো থাকবে নানা ধরনের গরম মসলা।

এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পটুয়াখালীবাসী নামের সংগঠনের প্রায় ৫০ কর্মী সকাল থেকে বিকেল অবধি কাজ করছেন। বিশেষ ওই বাজারে কোনো বিত্তবান গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু স্বল্প আয়ের লোকজন ওই বাজারের ক্রেতা। শহরের আলাউদ্দিন শিশু পার্ক, নিউ মার্কেট এলাকা, চোরাস্তা, বাঁধঘাট, পৌরসভা মোড়সহ প্রায় ১০টি স্পটে পটুয়াখালীবাসীর মধ্যবিত্তের বাজারে বিকিকিনি চলে। এরই মধ্যে এ বাজার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর ফলে স্বস্তি নেমে এসেছে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে।

ক্রেতারা যা বললেন : দিনমজুর ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি ভ্যান চালাই। রোজার মাস, আয়ও অনেক কম। জিনিসপত্রের যে দাম তাতে বাজার-সদাই করতে হিমশিম খাইতে অয়। আমার মতো গরিবের পক্ষে ১০, ২০, ৫০ টাকা বাজার খরচে বাঁচাতে পারলে অনেক লাভ। সংগঠনের ভাইয়েরা যে কাজটি করছে, আমরা পরান খুইল্লা তাদের জন্য দোয়া করি। ’ নাজমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী নাই, দুইডা সন্তান। আমি মাইনসের (মানুষের) ঘরে কাম করি। ওই আয় দিয়া কোনোরকমে দিন চলে। পৌরসভার মোড় দিয়া ভাইগো দোকান থেকে বাজার করছি। অনেক কোম টাহা। রোজার পুরা মাসে এই সংগঠনের ভাইয়েরা যদি কম টাহায় মালামাল ব্যাচে, তাহেলে আমাগো মতো গরিবের খুব উপকার অইবে। আমাগো মোত গরিব বাঁচাইতে আল্লায় কিছু মানুষ বাঁচাইয়া রাখছে। ’ মো. আসাদুল ইসলাম নামের একজন শিক্ষক বলেন, "বাজারে পণ্যের দাম পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছে। সে ক্ষেত্রে আমার মতো শিক্ষকদের এর পেছনে ছুটতে অনেক কষ্ট হয়। আসলে আমাদের মতো অনেক শিক্ষকসহ স্বল্প আয়ের লোকজন টিসিবি পণ্যের জন্য দৌড়ানোটা শোভা পায় না। পটুয়াখালীবাসীর ‘মধ্যবিত্তের বাজার’ আমাদের জন্য বড় নিয়ামত। "

সংগঠনের সদস্যরা যা বললেন : পটুয়াখালীবাসী সংগঠনের সদস্য সাবরিনা মেহজাবিন স্বর্ণা বলেন, "বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পটুয়াখালীবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি চলছে। বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। তারই অংশ হিসেবে নানা কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ দুঃসময়ে রমজানজুড়ে নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে ‘মধ্যবিত্তের বাজার’ নামের এ কার্যক্রম শুরু করেছি। আশা করি, এই উদ্যোগের ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা রমজান উপলক্ষে বেশি মুনাফা না করে সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে। "

আরেক সদস্য মেহেদী হাসান বলেন, ‘মানবতার সেবায় আমরা সব সময় কাজ করি। ওই ধারাবাহিকতায় মধ্যবিত্তের বাজার খুলেছি। যেকোনো উদ্যোগে আমরা সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা পাই। ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবিক কাজ অব্যাহত থাকবে। ’

পটুয়াখালীবাসী সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান রায়হান বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দামে হিমশিম খাচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষ। আমরা সংগঠনের উদ্যোগে নিজেদের তোলা চাঁদা ও দানশীল বিত্তবানদের সহায়তায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক মধ্যবিত্ত রয়েছে, যারা টিসিবির পণ্য কিনতে লজ্জায় পড়ে লাইনে দাঁড়াতে কিংবা গাড়ির পেছনে দৌড়াতে চায় না। ওই শ্রেণির মানুষও অনেক অসহায়, তারাও সুযোগ পাচ্ছে মধ্যবিত্তের বাজার থেকে পণ্য কিনতে। আশা করছি, রমজানজুড়ে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ’



সাতদিনের সেরা