kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে মায়ের হাতে খাবার খেলো রিফাদ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০২২ ১৮:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে মায়ের হাতে খাবার খেলো রিফাদ

থানায় বসে রিফাদকে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছেন মা রিক্তা বেগম।

ছুটির দিনে ঘুরতে আসা রিফাদ নামের এক মাদরাসাছাত্রকে অহপহরণের পর তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার উদ্ধার হওয়া রিফাদকে হেফাজতে নেয় রাজবাড়ী থানার পুলিশ। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন রিফাদের মা রিক্তা বেগম। সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিন দিন পর উদ্ধার হওয়া ছেলেকে খাবার খাওয়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন রিক্তা। দোকান থেকে খাবার আনিয়ে নিজ হাতে খাইয়ে দেন ছেলেকে। এ যেন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে মায়ের হাতে খাবার খাওয়া।

এর আগে ভুক্তভোগী ছাত্র জুবায়ের হোসেন রিফাদের মা বাদী হয়ে সোমবার সকালে রাজবাড়ী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

মোবাইল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের ওই দৃশ্য ধরা পড়ে শহরের সিসিটিভি ফুটেজে। উদ্ধার হওয়া মাদরাসাছাত্র রিফাদ (১১) রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের সৌদিপ্রবাসী শাজাহান মোল্লার ছেলে। জেলা শহরের দারুল উলুম ভাজনচালা মাদরাসার হাফেজিয়া শাখার ছাত্র সে।

রিফাদকে অপহরণের দৃশ্য ধরা পড়ে শহরের সিসিটিভি ফুটেজে।

মামলার বাদী রিফাদের মা রিক্তা বেগম (২৯) জানান, শুক্রবার (১১ মার্চ) খেলাধুলা করতে সকাল সাড়ে ৮টায় বন্ধু পিয়াসের সঙ্গে বের হয় রিফাদ। জেলা শহরের শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে খেলাধুলা করার সময় সেখানে অপরিচিত এক ব্যক্তি এসে তাদের সঙ্গে গল্প করে। এ সময় ওই লোক তাদেরকে একটি মোবাইল ফোন দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। তবে শর্ত দেয় মোবাইল নিতে হলে তাদেরকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যেতে হবে।

পিয়াস ওই ব্যক্তির ডাকে সাড়া না দিলেও রিফাদ রাজি হয়। এক পর্যায়ে তারা তিনজন রাজবাড়ী প্রেস ক্লাবের সামনে আসে এবং রিফাদ ওই ব্যক্তির সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ওঠে। এর পর থেকেই তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ সোমবার দুপুরে তাকে তার নিজ বাড়ির এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

রাজবাড়ী থানার পুলিশের হেফাজতে থাকা উদ্ধার হওয়া জুবায়ের হোসেন রিফাদ মোল্লা জানায়, অটোরিকশায় কিছুদূর যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি তার মুখে কাপড় চেপে ধরে। এরপর সে আর কিছু জানে না। জ্ঞান ফেরার পর সে নিজেকে একটি কলাবাগানে দেখতে পায়। এ সময় তার হাত-পা বাঁধা ছিল। দাঁত দিয়ে সে প্রথমে তার হাতের বাঁধন খোলে, পরে পায়ের বাঁধন খোলে। পরে হাঁটতে হাঁটতে সে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন পৌঁছায়। সেখান থেকে সোমবার সকালের ট্রেনে সে বাড়ি ফেরে।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান জানান, পুলিশি তৎপরতায় ভয় পেয়ে রিফাদকে ফেলে রেখে অপহরণকারীরা পালিয়েছে। রিফাদকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



সাতদিনের সেরা