kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ১৭ মে ২০২২ । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩  

অভাবের তাড়নায় আরেক অভাবীর সন্তান চুরি, পারভীন গ্রেপ্তার (ভিডিওসহ)

সাভার সংবাদদাতা   

১১ মার্চ, ২০২২ ১৩:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভাবের তাড়নায় আরেক অভাবীর সন্তান চুরি, পারভীন গ্রেপ্তার (ভিডিওসহ)

ঢাকার সাভারে জামেলা নামের তিন বছর বয়সী কন্যাশিশুকে চুরির এক দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে  চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১১ মার্চ) দুপুরে সাভার মডেল থানা থেকে গ্রেপ্তারকৃত ওই পারভীন আক্তারকে আদালতে পাঠানো হয়।  এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাভার ও আশুলিয়া থানার সীমান্তবর্তী এলাকা আনারকলি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়৷

অভিযুক্ত পারভীন আক্তার টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কুচুটি গ্রামের শমশের আলীর মেয়ে।

বিজ্ঞাপন

সাভারের কোর্টবাড়ী এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। চার বছর বয়সের মেয়ে ও আড়াই বছর বয়সের ছেলেসহ বৃদ্ধ বাবা ও মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন পারভীন।

উদ্ধার হওয়া শিশু জামেলা রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা। সে তার নানা-নানি ও মায়ের সঙ্গে থানা রোড এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকত।

ভুক্তভোগী শিলা বেগম বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে আমার স্বামী আমাকে ভরণপোষণ দেয় না। আমি ১০ বছর আগে রাজবাড়ী থেকে সাভারে আসি। এখানেই স্বামীসহ থাকতাম। স্বামী আমাকে রেখে চলে গেছে। আমি মানুষের বাসায় কাজ করে মেয়েটাকে দেখাশোনা করি ও সংসার চালাই। বুধবার আমি কাজে গেলে দুপুর ১২টার দিকে আমার মেয়ে রাস্তায় বের হয়। এ সময় একজন বোরকা পরা নারী তাকে তুলে নিয়ে চলে যায়। বিষয়টি আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখে নিশ্চিত হই। বুধবার থেকে খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে রাতেই থানায় মামলা করি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সাভারের থানা রোড এলাকার সুপারশপ স্বপ্নের সামনে থেকে জামেলাকে চুরি করে নিয়ে যায় বোরকা পরা নারী পারভীন। সেখানে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ দেখে শিশুটিকে উদ্ধারে নামে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরাও শিশুটির খোঁজ করতে থাকে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাভারের আনারকলি এলাকায় শিশুটিসহ অপহরণকারী পারভীনের খোঁজ পায়। পুলিশ এসে শিশুটিকে উদ্ধারসহ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে।

পারভীনের ঘরে দুই সন্তান। অটোরিকশাচালক স্বামী তিন থেকে চার বছর আগে তাদের ছেড়ে গেছেন। বৃদ্ধ বাবা-মাকে পারভীনকেই দেখতে হয়।

শিশুকে ফিরে পেয়ে মা শিলা বেগম বলেন, শিশু হারিয়ে আমার মারা যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল। সাংবাদিক ও পুলিশকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের প্রচেষ্টায় আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেয়েছি। অপরাধীদের কঠিন শাস্তির দাবি জানাই, যাতে করে এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুল ইসলাম রাসেল বলেন, পারভীন মূলত শিশুটিকে চুরি করে বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, পারভীন ও তাঁর পরিবার খুবই দরিদ্র। কোনো রকমভাবে জীবনযাপন করছে। গ্রামে কোনো কিছুই নেই। অনেকটা ভাসমান। নিজের সন্তানদের অভাব মেটাতে অন্যের সন্তান চুরি করে বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির ভুক্তভোগী মা শিলা বেগম।


এই রকম আরো খবর


সাতদিনের সেরা