kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ১৭ মে ২০২২ । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩  

শরণখোলায় ১৪৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

'৭০ বছর পরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, এটা লজ্জার'

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১৭:০৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'৭০ বছর পরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, এটা লজ্জার'

বাগেরহাটের শরণখোলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আজও নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। ১৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র একটিতে আধুনিক ও মানসম্মত শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক, তিনটি মাধ্যমিক, দুটি কলেজ, একটি মাদরাসাসহ ১১টি প্রতিষ্ঠানে বহু পুরনো এবং ত্রিভূজাকৃতির নামমাত্র শহীদ মিনারের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

অন্যসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা দিবস এলে কলা গাছের প্রতীকী শহীদ মিনার বানিয়ে তাতেই শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়।

বিজ্ঞাপন

এমনকি উপজেলা পর্যায়েও নেই আধুনিক মানের শহীদ মিনার। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মাধ্যমে একটি সাধারণ মানের শহীদ মিনার নির্মাণ শুরু হয় দুই বছর আগে। তাও অসম্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে এখনো।

মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর পরও বাঙালি জাতির অস্তিত্ব শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক নেতারা। তারা উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটিসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ১১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৬টি মাদরাসা এবং পাঁচটি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে আধুনিক মানের শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ চলছে শুধুমাত্র শরণখোলা সরকারি ডিগ্রি কলেজে। এ ছাড়া ২নম্বর ধানসাগর নলবুনিয়া প্রাথমিক, ৫নম্বর আমগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক, ২৮নম্বর চালিতাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক, ৩৪নম্বর বানিয়াখালী ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক, ৫২নম্বর বকুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আমড়াগাচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধানসাগর-নলবুনিয়া আলিম মাদরাসা, তাফালবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাতৃভাষা ডিগ্রি কলেজ এবং ড. মাসুম বিল্লাহ ডিএন কারিগরি কলেজে পুরনো আমলে শহীদ মিনারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

এর মধ্যে আমড়াগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৩৪নম্বর ধানসাগর ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিরামিডের মতো ত্রিভূজ আকারের শহীদ মিনার দেখা গেছে।

১০৫নম্বর খোন্তাকাটা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা মো. ফরিদ আহমদ জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে তারা কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে তাতে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছেন।

মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা আ. জলিল আওনায়ারী জানান, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই ধরণের শহীদ মিনার করা উচিৎ। আর অনেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল নেই। এ ব্যাপারে সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।

মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মিলন জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলে শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদের সম্পর্কে জানতে পারবে। তাছাড়া দেশপ্রেম ও ভাষার প্রতি তাদের অনুরাগ বাড়বে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ও যুদ্ধকালীন স্টুডেন্ট ক্যাম্প কমান্ডার মো. হেমায়েত উদ্দিন বাদশা বলেন, ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর পর এসেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই শুনে লজ্জাবোধ হয়। এটা ভাষা শহীদদের প্রতি একপ্রকার অবমাননা। এমনকি উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটিও টাকার অভাবে দুই বছরেও সম্পন্ন করতে পারিনি। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, কতগুলো স্কুলে শহীদ মিনার আছে আর কতগুলোতে নেই শুধু এই তালিকা তিন বছর ধরে অধিদপ্তরে পাঠাচ্ছি। কিন্তু তার কোনো বাস্তবায়ন দেখছি না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুজ্জামান খান বলেন, কোন কোন প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেগুলো জরিপ করে এক বছর আগে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আজগর আলী বলেন, উপজেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনারের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতগুলো শহীদ মিনার এক সঙ্গে করা সম্ভব না। পর্যাক্রমে সবগুলোই বাস্তবায়ন করা হবে।



সাতদিনের সেরা