kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ১৭ মে ২০২২ । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩  

মাদরাসায় মুক্তিযুদ্ধ কর্নার : কাগজে আছে, বাস্তবে নেই

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১৯:২১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাদরাসায় মুক্তিযুদ্ধ কর্নার : কাগজে আছে, বাস্তবে নেই

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় একটি দাখিল মাদরাসায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার নির্মাণ করলেও বাস্তবে এর অস্তিত্ব নেই বলে অভিযোগ করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বিবি দাখিল মাদরাসার সুপার শামসুল আলমের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা কর্নার নির্মাণের অজুহাতে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

লিখিত আবেদন ও অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা শিক্ষা অফিস ২০১৯ সালে সকল বিদ্যালয় ও মাদরাসায় মুক্তিযুদ্ধ কর্নার নির্মাণের নির্দেশনা দেয়। এর কয়েক মাস পর বিবি দাখিল মাদরাসার সুপার শামসুল আলম ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে মিটিং করে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার নির্মাণের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে নগদ টাকা নিজের কাছে রেখে দেন। এর কিছুদিন পর করোনাভাইরাসের কারণে মাদরাসা বন্ধ হয়ে গেলে কর্নার তৈরির কাজ আর এগোয়নি। এরপর পরবর্তী ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে গত বছরের শেষের দিকে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপনের টাকা খরচের বিষয়টি জানতে চান সুপারের কাছে। তখন সুপার এই টাকা খরচ নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করেন। পরে মাদরাসার বাইরে মার্কেটের একটি কক্ষে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধ কর্নার ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করে সুপার স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন ও তার পরিবারের তিন সদস্যের নামে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই দোকান ঘরে দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন ও তার ছেলে সজীব কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিকসের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মাসুদ প্রামানিক বলেন, 'মাদরাসার সুপারের এখনো মুক্তিযুদ্ধ কর্নার নির্মাণ করা‌ দেখিনি। কিন্তু কেন তিনি এ বিষয়টি নিয়ে মিথ্যাচার করছেন তা জানি না। '

এর আগের কমিটির সদস্য ওয়াজের তরফদার বলেন, মাদরাসায় মুক্তিযুদ্ধ কর্নার করা হয়নি। এখন সদস্যদের উল্টাপাল্টা বোঝাতে একজনের দোকানে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার নির্মাণের পর ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সুপার।

আরেক সদস্য উজ্জ্বল শাহ বলেন, বরাদ্দ নিয়েও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার করেননি মাদরাসা সুপার। করোনার কারণে মাদরাসায় পাঠদান বন্ধ থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার নির্মাণ হলে কমিটির লোকজন উদ্বোধন করতেন। এখন মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ খান বলেন, মাদরাসার সুপার তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন মিলিটারি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন সুপার। তাই তার কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।

অভিযোগের বিষয়ে সুপার শামসুল আলমের কাছে কত দিন আগে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার বানিয়েছিলেন জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তিনি বলেন, ২০১৬, ২০১৭ অথবা এরপর কোনো এক সময় মাদরাসার সামনে একটি দোকানের ভেতর তিন লাখ টাকা ব্যয়ে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করেছিলেন। সেই কর্নার কোথায়? জানতে চাইলে তিনি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানান। এ সময় মুক্তিযুদ্ধ কর্নার উদ্বোধন কিংবা কোনো কর্মসূচি পালনের ছবি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।

এদিকে সুপারের দায়ের করা মামলার প্রথম সাক্ষী আব্দুল কাদের বলেন, মাদরাসার বাইরে দোকানের ভেতর মুক্তিযুদ্ধ কর্নার করার কথা বলা হলেও বাস্তবে সেখানে কখনোই করা হয়নি। বিষয়টি সকলে বসে সমাধান করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশীদ বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধ কর্নার নির্মিত হলে অবশ্যই আমরা জানতাম। মাদরাসার সুপার টাকা আত্মসাৎ করতে মিথ্যাচার করছেন। '

মাদরাসার পাশের বিবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাইদুল ইসলাম বলেন, 'মাদরাসার সামনে কখনোই মুক্তিযুদ্ধ কর্নার দেখি নাই। কিন্তু শুনেছি এর জন্য নাকি তিন লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। '

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা