kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ২৪ মে ২০২২ । ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২২ শাওয়াল ১৪৪৩  

নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জের পোশাক কারখানার আগুন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি    

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জের পোশাক কারখানার আগুন

নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে পোশাক কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৩টি ইউনিটের চেষ্টায় টানা পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।  

আজ শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন।

এর আগে আজ শুক্রবার বিকেলে জাহিন নিটওয়্যার নামের একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

বিজ্ঞাপন

কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, আগুনে তাদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আগুনে কারো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।  

প্রতিষ্ঠানের সুইং বিভাগের শ্রমিক হাবিব জানান, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আগুন লাগে। প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তারক্ষীরা প্রথমে বের হয়ে ২ নম্বর ইউনিটের সামনে ‘আগুন, আগুন’ বলে চিত্কার করতে থাকেন। এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তবে গতকাল ছুটির দিন হওয়ায় কারখানার বেশির ভাগ ইউনিট বন্ধ ছিল। প্রতিটি ইউনিটে কিছু শ্রমিক তৈরি পোশাক প্যাকেট করে শিপমেন্টের জন্য ৬ নম্বর ইউনিটে সরাচ্ছিলেন।  

প্রতিষ্ঠানের আশপাশের এলাকায় কিছু শ্রমিক থাকেন। দূর থেকে ধোঁয়া দেখে তাঁরা আগুন নেভাতে যান। তবে ধোঁয়া পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার কারণে পাশের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকরা ফ্যাক্টরির ২ নম্বর ইউনিটের দোতলা শেডের আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে শ্রমিকরা সেখানে ঢুকে ধোঁয়া বের করতে জানালার কাচ ভেঙে দেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে তাঁরা নেমে এসে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।   

প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক শফিউদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘কারখানার প্রতিটি ইউনিটের ওপরের অংশ ইস্পাতের কাঠামোর তৈরি। নিচের অংশ কাঠ ও বোর্ড দিয়ে ডেকোরেশন করা। আমরা মূলত গেঞ্জি, পলো শার্ট, জ্যাকেট, ট্রাউজার তৈরি করি। প্রতিটি ইউনিটের ওপরের অংশে এসব তৈরি পোশাক ছিল। আগুন এসবে লেগে বেশ উঁচু হয়ে জ্বলতে থাকে। আমাদের প্রতিটি ইউনিটই বিশাল। এর মধ্যে ৫ নম্বর ইউনিট ২৫ হাজার বর্গফুটের। ফলে আগুনে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ’ 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৪টায় আগুন লাগার খবর পাই। পৌনে ৫টায় ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর একে একে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁ, বন্দরসহ আশপাশের ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করতে থাকে। রাত পৌনে ৯টায়ও ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করছিল। ’

বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা জানান, আগুন নেভানোর জন্য পানির সরবরাহের জন্য পাইপলাইনগুলি রাস্তার এপার থেকে রাখা ছিল বিধায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে রাত সাড়ে ৮টা থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।



সাতদিনের সেরা