kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

নৌকার পক্ষে কাজ করায় খাল ইজারা নিয়েও মাছ চাষে বাধা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ২২:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নৌকার পক্ষে কাজ করায় খাল ইজারা নিয়েও মাছ চাষে বাধা

বরগুনা আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের কুলাইরচর গ্রামের সরকারি দুষমী (সাবানিয়া) খাল তিন বছর মেয়াদে ইজারা নিয়েও মাছ চাষের আওতায় আনতে পারছেন না ইজারাদার। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ইন্ধনে স্থানীয় কতিপয় দুষ্কৃতিকারী জলমহালের মাছ, বেড়া, সাইনবোর্ড ইত্যাদি লুটপাট করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করছেন উত্তর পশ্চিম টেপুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. রাশেদুল ইসলাম মৃধা।

জানা যায়, দুষমী সাবানিয়া খালের দুই পাড়ের কয়েক শ একর ফসলি কৃষি জমি রয়েছে। এ খালটিতে জোয়ার ভাটার পানি উঠায় ১২ মাস পানি থাকে।

বিজ্ঞাপন

শুকনো মৌসুমে কৃষকরা ওই খালের পানি দিয়ে রবিশস্য, তরমুজ, মুগডাল, চিনা বাদাম, মিষ্টি আলুসহ বোরো ও ইরি ধানের চাষাবাদ করে থাকেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে বাংলা ১৪২৮ সাল থেকে ১৪৩০ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে সরকারি দুষমী (সাবানিয়া) খালের ইজারা দেওয়া হয়। বিগত নির্বাচনগুলোতে এলাকার একটা বিশেষ পরিবারের পক্ষে কাজ করতে না পারার কারণে পরিবারের লোকজন জনপ্রতিনিধি হওয়ায় আমি রোষানলে পড়েছি।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, ইজারা দেওয়া ওই জলমহালের দু’পাড়ে ঘন জালের বেড়া উপড়ে নেওয়া হয়েছে। উপড়ে ফেলা হয়েছে জলমহলের সাইনবোর্ড। স্থানীয়রা জানিয়েছে, প্রকাশ্যে চেয়ারম্যানের লোকজন খালের মাছ ধরে নিয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট ইজারাদার মো. রাশেদুল ইসলাম জানায়, খালে মাছ চাষের পাশাপাশি এলাকার কৃষকদের কৃষিকাজ ছাড়াও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে পানি ব্যবহার করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে ইজারাদারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার বাধা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। ওই খালে মাছ চাষ করা হলে খালের দুপারের অধিবাসীরাই উপকৃত হবেন। খরা মৌসুমেও খালে যাতে পানি থাকে তার ব্যবস্থা করা হবে।

কৃষক আফজাল মৃধা জানান, বন্দোবস্ত দেওয়া খালটিতে জোয়ার ভাটার পানি উঠা নামা করে। আর আমাদের কৃষিকাজের প্রয়োজনে ওই খাল থেকে পানি নিতে ইজারাদার কখনো বাধা দেয়নি বরং কতিপয় দুষ্কৃতিকারী জলমহালের মাছ, বেড়া, সাইনবোর্ড ইত্যাদি লুটপাট করে নিয়ে গেছে।

ইজারাদার রাশেদুল ইসলাম দাবি করেন, শুধুমাত্র বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই আজকে এলাকার সহজ সরল মানুষ দ্বারা জলমহালটি নষ্ট করার চক্রান্ত চলছে।

হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, পানি কৃষকের জমি চাষাবাদে খুবই প্রয়োজন। ওই খালের পানি দিয়েই এলাকার কৃষকরা তাদের জমি চাষাবাদ করে। খালের ইজারা বাতিলের জন্য কৃষকরা জেলা প্রশাকর বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন। আমি আশা করি উপজেলা প্রশাসন খালের ইজারা বাতিল করে এলাকায় শান্তি বিরাজ করার ব্যবস্থা করবেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাজমুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমি গতকাল সরেজমিনে খালটি তদন্তের জন্য পরিদর্শন করেছি। দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল্লাহ বিন রশিদ মুঠোফোনে বলেন, খালটির ইজারা বাতিলের জন্য ডিসি স্যারের কাছে দেওয়া অভিযোগের বিষয় তদন্ত করার জন্য অ্যাসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।  



সাতদিনের সেরা