kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

'টাকা চোর সন্দেহে' দুই শিশুকে নির্যাতন

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি   

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ২১:০৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'টাকা চোর সন্দেহে' দুই শিশুকে নির্যাতন

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় টাকা চুরি সন্দেহে দুই শিশুকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্য ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত এক শিশুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর শিশুকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জোর করে তাড়িয়ে দেন ইউপি সদস্যের লোকজন।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে দুই শিশুকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুমুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গতকাল বুধবার উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজিব মোল্লাটারী গ্রামের আকরাম হোসেনের ঘরের সিঁধ কেটে ৭০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল বুধবার সকালে একই এলাকার দুই শিশুকে বাড়ি থেকে ডেকে আনেন আকরাম ও তার ভাই ইয়াকুব আলী। এরপর ইউপি সদস্য ইউনুস আলী তার বাড়িতে ঘরের মধ্যে দুই শিশুকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে। বিষয়টি জানাজানি হলে সরকারের জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা চায় স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইউপি সদস্য ইউনুস আলীর বাড়ি থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেয়।

নির্যাতনের শিকার এক শিশু বলে, আমাকে জোরপূর্বক মেম্বারের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে গাছের ডাল দিয়ে মারপিট করেন ইউনুস মেম্বার। তার পা ধরে বলেছিলাম, আমি টাকা চুরি করি নাই। আমার কোনো কথাই শুনেনি। কোমর থেকে পা পর্যন্ত গাছের ডাল দিয়ে মারপিট করেছে।

শিশুটির মা জানান, সংসারে অভাবের কারণে তাঁর ছেলে একটি পিকআপ ভ্যানে সহকারী হিসেবে কাজ করে। চার দিন পর গত মঙ্গলবার নওগাঁ থেকে বাড়িতে ফিরে রাতের খাওয়া শেষে গাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বুধবার সকালে তিন নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইউনুস আলী তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে পেটিয়েছে। তাঁর নিরপরাধ ছেলেকে যারা এভাবে নির্যাতন করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

এক শিশুর মামা বলেন, তাঁর ভাগ্নেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ইউনুস মেম্বারের লোকজন তাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসে সে। এখন বিনা চিকিৎসায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে সে।

নির্যাতনের শিকার আরেক শিশুর বাবা বলেন, সকালে কাজে বেরিয়ে গেছিলাম। বিকেলে বাড়িতে ফিরে জানতে পারি আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে গেছে ইউনুস মেম্বারের লোকজন। পরে বাড়িতে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। পুলিশ উদ্ধার করার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ওমর ফারুক জানান, এক শিশুর ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। তার দুই উরুতে চারটা সুঁই ফোটানো হয়েছে এবং বাম হাঁটুর নিচে ফোলা আছে। এ ছাড়া ডান পায়ের গোড়ালি ফুলে গেছে। তার এক্স-রে করার জন্য বলা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য ইউনুস আলী বলেন, 'আমি মারধর করিনি। আকরাম ও ইয়াকুবের বাড়িতে দুই শিশুকে মারধর করা হয়েছে। '

মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে আকরাম হোসেন বলেন, 'প্রথমে এক শিশুকে নিয়ে আসা হয়। পরে মেম্বারের কথামতো আরেক শিশুকে আনা হয়। তাদের মেম্বারের বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মেম্বার চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধারের জন্য শিশু দুজনকে মারপিট করেছে। এ সময় আমি শিশু দুটিকে সামান্য চড়-থাপ্পড় মেরেছি। '

কাউনিয়া থানার ওসি মাসুমুর রহমান বলেন, ৯৯৯ এ খবর পেয়ে টেপামধুপুরের ইউপি সদস্য ইউনুস আলীর বাড়ি থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী বলেন, 'বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানার ওসিকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। '



সাতদিনের সেরা