kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

নান্দাইলের গাঙ্গাইল-পাইকুড়া সড়ক

লাভ কম, তাই তিন বছর ধরে সড়কের কাজ বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ১৫:২৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লাভ কম, তাই তিন বছর ধরে সড়কের কাজ বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদার

প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ শুরু করেছিলেন ঠিকাদির। কিন্তু লাভ-লোকসানের হিসাব কষে সন্তুষ্ট হতে পারেননি তিনি। তাই লাভ কম অজুহাত দেখিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে রাস্তার কাজ করছেন না ঠিকাদার। এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই স্থানীয় এলজিইডির।

বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার গাঙ্গাইল বাজার হতে পাইকুড়া বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার কার্পের্টিং সড়ক এমন দশায় পড়ে আছে। পাকা করার কাজ গত প্রায় তিন বছর ধরে ঝুলে আছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর কার্যাদেশ প্রদান করে।

স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় থেকে জানা যায়, ময়মনসিংহের ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম কাজের দায়িত্ব পান। মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ ৩৪ হাজার ৬শ ৭২ টাকা বরাদ্দে সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবার কথা ২০২০ সালের ২৬ এপ্রিল। কিন্তু দীর্ঘ তিন বছরের অধিক সময়ে কাজ হয়নি। সড়কটির এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে কাজই ধরা হয়নি।  

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, গাঙ্গাইল বাজার থেকে ১ কিলোমিটার অংশে দু'দিকে ইটের সারি দিয়ে তাতে বালি-সুরকি দিয়ে রাখা হয়েছে। বাকি অংশে ইটের সারি না দিয়েই সুরকি বালি ফেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় কোথাও কোথাও গর্ত সৃষ্টি হবার পাশাপাশি জন্মেছে ঘাস। কিছু কাজ করা সড়কের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে করতে এখন আর সড়কে সুরকির অস্তিত্ব বোঝা যাচ্ছে না। বৃষ্টি হলে সড়কে প্রচুর কাদা এবং রোদে ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে। একটি ছোট আকারের যানবাহন চলাচল করলেই ধুলাবালিতে ভরে যাচ্ছে আশপাশ। এতে যানবাহনের যাত্রীসহ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া বেশ কয়েকটি ট্রাক্টর পাশের ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করায় সড়কটির অবস্থা আরো নাজুক হয়ে গেছে। বিশেষ করে পাইকুড়া বাজার থেকে সুন্দাইল গ্রামের দিকের সড়কটির অবস্থা বরই করুন।  

ওই গ্রামের বৃদ্ধ জাহেদ আলি জানান, তিনি অসুস্থ, হাঁটতে পারেন না। রাস্তা ভালো না থাকায় যানবাহনে করেও কোথাও যেতে পারছেন না। তিনি আরো বলেন, রাস্তা খারাপ থাকায় কাছের বাজারে নিয়ে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারে না তারা। ফলে বাড়িতেই মণপ্রতি ৫০ থেকে ১শ টাকা কম দরে ধান-পাট বিক্রি করতে বাধ্য হন। অটোচালক শাহজাহান বলেন, আগে তো যাওন যাইতো। অহন মনে অয় মাথায় আকাশ ভাইঙ্গা পড়ে। গাড়ি চালাইলে চোখ দিয়া পানি আয়ে। ’ ইজিবাইক চালক রাসেল মিয়া বলেন, সড়কের অনেক জায়গায় বড়বড় গাতা অইছিল। আমরা নিজেরাই হেইডি ঠিক কইরা লইছি। সুন্দাইল গ্রামে বাড়ি স্থানীয় জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাদিসা ও শ্রাবন্তী সড়কটির এ দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তি সড়কের ঠিকাদার হলেও সাথে পার্টনার হয়ে কাজ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম। সাইফুল ইসলাম বলেন, কী কাজ করবো! কাজ শুরু করার সময় ৯০ লাখ টাকা বিল দাখিল করেছিলাম। কিন্তু যত সামান্য বিল পরিশোধ করায় মনই খারাপ। তাছাড়া হিসাব করে দেখছি লাভও খুব বেশি হবে না। তাই চিন্তা-ভাবনায় আছি।

ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন জানান, প্রায় চার বছর পূর্বে ফিতা কেটে সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে দীর্ঘদিনেও কাজ শেষ হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ওই ঠিকাদার বাদ দিয়ে নুতন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ সমাপ্ত করতে বলেছি।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আল-আমিন সরকার জানান, দীর্ঘ দিনেও কাজ কমপ্লিট না করা দুঃখজনক। এ ব্যাপারে ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লেখা হয়েছে। অচিরেই নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করা হবে।



সাতদিনের সেরা