kalerkantho

বুধবার ।  ২৫ মে ২০২২ । ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩  

মেয়েকে গুমের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি   

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ২০:১২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মেয়েকে গুমের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

রংপুরের পীরগাছায় নিজ মেয়েকে অপহরণের পর গুমের মামলায় বাবা লুৎফর রহমানকে (৮০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২-এর বিচারক মো. রোকনুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি লুৎফর রহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মকরমপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে রাবেয়া খাতুন একই এলাকার আব্দুর রশীদ নামের এক যুবককে ভালবেসে বিয়ে করেন। এ নিয়ে রাবেয়ার পরিবারের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে রাবেয়ার ভাশুর হোসেন আলী হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ঘটনায় রাবেয়ার বাবাসহ পরিবারের লোকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের হয়। এ মামলায় লুৎফর রহমানসহ অন্য আসামিরা নিম্ন আদালতে খালাস পান। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র চাক্ষুষ সাক্ষী ছিলেন তাঁর মেয়ে রাবেয়া খাতুন।

ঘটনার পর থেকে বাবা লুৎফর রহমান তাঁর মেয়ে রাবেয়া বেগমকে হত্যার পর লাশ গুম করার পরিকল্পনা করতে থাকেন। একপর্যায়ে ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাবেয়াকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কৌশলে পীরগাছার চৌধুরানী বাজারে বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান লুৎফর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা। রাবেয়া তাঁর বাবার মতলব বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করলে বাধ্য হয়ে লুৎফর রহমান মেয়ে রাবেয়াকে বাড়িতে ফেরিয়ে নিয়ে যান। এর পর থেকে রাবেয়া বেগমের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাঁর ছেলে রাঙ্গা মিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে মায়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন রাঙ্গা মিয়া।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে বাবা লুৎফর রহমানসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে এক আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন।

সরকারপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২-এর বিশেষ পিপি জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আসামি লুৎফর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিচারক। অন্য আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ রাবেয়ার সন্তানদের প্রদান করার আদেশ দেওয়া হয়।



সাতদিনের সেরা