kalerkantho

বুধবার ।  ২৫ মে ২০২২ । ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩  

'সমলয় আবাদ কৃষকদের খরচ কমিয়ে লাভবান করবে'

জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১৯:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'সমলয় আবাদ কৃষকদের খরচ কমিয়ে লাভবান করবে'

কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে অগ্রগতি হয়েছে এ বিষয়টি সামনা সামনি দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। আমরা সবাই জানি শিল্পায়নের প্রভাব এবং বাড়ি-ঘর, পুকুর-শিল্প-কলকারখানা করে কিছুটা লাভজনক হওয়ার কারণে প্রতিবছর এক শতক করে জমি কমে যাচ্ছে। সারা পৃথিবীতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কৃষির সাথে জড়িত। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কৃষি।

বিজ্ঞাপন

নীলফামারীর জলঢাকায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে ধানের চারা রোপণের মাধ্যমে সমলয়ে চাষাবাদ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপরোক্ত ভার্চুয়াল বক্তব্য রাখেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন।

আজ বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহাবুব হাসানের সভাপতিত্বে বালাগ্রাম ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে সভায় আরেফীন আরো বলেন, আমরা একটু পড়ালেখা করলেই কৃষিকাজ করতে চাই না। এমন একটা মনোভাব তৈরি হয়েছে। এজন্য আমাদের কৃষি শ্রমিকও কমে গেছে। কৃষি জমি ও কৃষি শ্রমিক কমে যাবার কারণে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে যেতে হচ্ছে। যন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত কৃষির কাজগুলো করা যায়। বাংলাদেশের ক্ষেতগুলো সাধারণত  ছোট ছোট। নানা কারণে পাশাপাশি জমির মালিকদের সাথে অনেক সময় ব্যক্তিগত বিরোধ থাকে। যান্ত্রিকীকরণের কারণে এক সাথে সবার আবাদ হয়। বীজতলাও তৈরি করা যায়। অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী হয়। কোনো একটি এলাকার কৃষি পণ্যের পুরো প্রক্রিয়াটি যদি একই সিস্টেমের আওতায় আনা যায় তাহলে জমির আইল বজায় রেখে লাভজনকভাবে যন্ত্র ব্যবহার করার যে কার্যকরী পদ্ধতি কৃষি বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করেছেন সেটাই হচ্ছে সমলয়।

তিনি বলেন, কৃষকদের খরচ কমিয়ে অধিক লাভবান করতেই সমলয় আবাদ। এই বিষয়টি কৃষিকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমি আশা করছি জলঢাকা উপজেলার সমলয় আবাদ নীলফামারী জেলায় নেতৃত্ব দেবে। বাংলাদেশের কৃষিবিজ্ঞানী ও কৃষিবিদদের গবেষণার ফলে কোনো মানুষ না খেয়ে মরবে না। এটা আমাদের বিশাল অর্জন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি ২০২১-২০২২ রবি মৌসুমে কৃষি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নে বোরো ধানের সমলয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে ৫০ একর জমিতে এই সময়ে  ট্রেতে বীজ বপন, চারা রোপণ এবং ফসল কর্তনের মাধ্যমে কৃষকের যেমন উৎপাদন খরচ কমবে তেমনি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এক মাস পূর্বে ধান বীজগুলো বপন করা হয়। যা আজ চারা হিসেবে রোপণের উপযুক্ত। সিনজেন্টা-১২০৫ জাতের চারা ৮০ জন কৃষকের জমিতে রোপণ করা হবে।

সমলয় আবাদের সুবিধাভোগী কৃষক ইয়ছিন আলী ও গোলাপ মিয়া জানান, এই আবাদের মধ্য দিয়ে সরকার আমাদের জন্য দৃশ্যমান উন্নয়ন করল। স্বাস্থ্যের মতো আমরাও দোরগোড়ায় কৃষি সেবা পাচ্ছি। আমাদের উন্নয়নের জন্য সরকারের এ যেন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল।

উদ্বোধনী সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মীর হাসান আল বান্না। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক, রংপুর অঞ্চল আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার শাহাদৎ হোসেন, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম, বালাগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আহম্মেদ  হোসেন ভেন্ডার প্রমূখ।  



সাতদিনের সেরা